প্রেমিকের বাড়িতে টানা অনশনে প্রেমিকা অসুস্থ


প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৫

নাটোরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা অনশনরত প্রেমিকা আতিয়া খাতুন আশা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।  

এদিকে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন প্রেমিক হাফিজুর রহমান। গত শুক্রবার নাটোর সদর উপজেলার মোকরামপুর গ্রামে এ ঘটনার সূত্রপাত। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশি মীমাংসার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।  

আতিয়া খাতুন আশার বাবা আলতাফ হোসেন ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আতিয়া খাতুন আশার সাথে পাশের মোকরামপুর গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে হাফিজুরের পরিবার আতিয়ার সাথে হাফিজুরের বিয়ে দিতে অস্বীকার করে। তারা গোপনে তাদের ছেলে হাফিজুরের অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হন।

ঘটনাটি প্রেমিকা আতিয়া খাতুন আশা জানতে পেয়ে হাফিজুরের কাছে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু কোনভাবেই হাফিজুর আশাকে বিয়ে করতে রাজি হয়না। এরমধ্যে হাফিজুরের পরিবার থেকে হাফিজুররে বিয়ে ঠিক করা হয় অন্যত্র।

এরই এক পর্যায়ে আতিয়া খাতুন আশা বিয়ের দাবিতে শুক্রবার হাফিজের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। এরপর ছেলে ও মেয়ে পক্ষকে সাথে নিয়ে এলাকার লোকজন সমঝোতায় বসে। তাতে সিদ্ধান্ত হয় দিনক্ষণ ঠিক করে দু’জনার বিয়ে দেওয়া হবে।

এরই ফাঁকে হাফিজুরের পরিবারের লোকজন হাফিজুরকে বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয় এবং আশাকে তার বাড়িতে ফিরে যেতে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আশা কোনভাবেই তা মানতে রাজি না হয়ে হাফিজুরকেই বিয়ে করবে বলে সকলকে জানিয়ে দেন।

এক পর্যায়ে হাফিজুরের পরিবারের সদস্যরা আশাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে আশা সেখানে অবস্থান নেন এবং বিয়ে না দেয়া পর্যন্ত অনশনের ঘোষণা দেন। এদিকে আশার এই অনশনের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে শনিবার রাতে পুলিশ হাফিজুরের বাড়িতে গিয়ে আশাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আশা অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে রাতেই সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আশা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক আকতারুজ্জামান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য আশাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লে আশাকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আশা সুস্থ হলেই এর মীমাংসা করা হবে। এজন্য আশা ও হাফিজুরের পরিবারকে বলা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে বসে সমাধান করে দেওয়া হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :