অপমানের বিচার না হলে আত্মহত্যার হুমকি দুই মুক্তিযোদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০

অপমান করা পুলিশ কর্মকর্তার বিচার করা না হলে বিষপান করে আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছেন আশাশুনির দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সোমবার দুপুরে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন ঘোষণা দেন।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মানিক চন্দ্র মন্ডলের ছেলে দীনেশ চন্দ্র মন্ডল লিখিত ও মৌখিকভাবে বলেন, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আমি আমার ডায়াং চায়না মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে আশাশুনিতে আসার সময় আশাশুনি বাইপাস হাইওয়ে তিন রাস্তার পাশে (দক্ষিণে) এসআই জুয়েল আমাকে গাড়ি থামাতে বলেন।

তিনি বলেন, তার নির্দেশমতো আমি গাড়ি থামাই। পরে এক কনস্টেবল সোহাগ আমাকে বলে এই গাড়ি রাস্তার পাশে আন। আমি বলি কাকা কী হয়েছে বলেন? তিনি বলেন রাস্তার ওপর কথা বলব না। গাড়ি রাস্তার পাশে আন। এরপর তিনি রুক্ষ মেজাজে বলেন এই বা... লাইট লাগাইছ কেন? তখন আমি বলি কাকা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। আমার ছেলে পুলিশে চাকরি করে। ভদ্রভাবে কথা বলেন!

‘তখন সে বলে ওই বা... পরিচয় বাদ দে! বুকের মধ্যে ওসব... লাগাইছ কেন। ওসব খুলে ফেল। এই বলে গাড়ির লাইটটা প্লাস দিয়ে কেটে নেয়। পরে হর্ন কাটার জন্য প্লাস বাহির করে একটি হর্ন কাটতে যায়। আমি তখন বাধা দেই। সে বলে দুটি হর্ন রাখা যাবে না। আমি বলি ৮০ সিসি চায়না গাড়িতে কোম্পানি দুটি হর্ন লাগাইয়া দিয়েছে। এটা আপনি কাটবেন কেন’?

‘সে বাধা না মানলে, আমি বলি ঘটনাটি আমি এসপিকে বলব। সে তার পরিহিত প্যান্টের চেইন খুলে দিয়ে আমাকে বলে আমার বা... ছিঁড়ে নিস। এ সময় সেখানে শতাধিক পথচারী উপস্থিত ছিলেন। আশপাশের দোকানদারও আমার সঙ্গে কী ব্যবহার হয়েছে, তা দেখেছে। ঘটনাটি শুধু আমার সঙ্গে ঘটেনি। আমার আগে অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা আফসার গাজীকেও একইভাবে অপমান করা হয়েছে বলে ওই সময় জেনেছি।’

এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার গাজীর গাড়ির সামনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত স্টিকার ছিঁড়ে ফেলে দিতে উদ্যত হয় ওই পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ।

তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বিষের বোতল এক হাতে নিয়ে বলেন, এহেন অপমান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের জন্য অতীব দুঃখজনক আত্মহত্যার শামিল। ওই পুলিশ কনস্টেবল কোন পরিবার থেকে এসেছে, কার ইন্ধনে এসব বলেছে, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

‘সঠিক বিচার যদি না পাই অন্যথায় আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।’ এ ঘটনায় তিনিসহ মুক্তিযোদ্ধা আফসার গাজী বিষয়টি লিখিতভাবে ওইদিন সন্ধ্যায় লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৌখিকভাবে থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী গাজী, আব্দুল করিম, কার্তিক চন্দ্র মন্ডল, মাস্টার আকবর আলীসহ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]