যশোরে শিক্ষা ব্যুরোর কর্মসূচিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২০

উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় যশোরে সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কর্মসূচিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই একটি এনজিও নিয়োগ বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামের ওই এনজিওর কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সচিব বরাবর একাধিক অভিযোগও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই এনজিও নির্বাচন করা হলে অর্ধকোটি টাকার এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য নষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোটা দেশে ঝরেপড়া শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক জেলা থেকে একটি লিড এনজিও নির্বাচন করা হয়েছে।

এনজিওগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে যশোরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত বছর সাত এনজিওকে প্রাথমিকভাবে শর্টলিস্ট তালিকায় রাখা হয়। সাতটির মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল দিশা সমাজকল্যাণ সংস্থা।

অভিযোগ উঠেছে, তালিকায় থাকা দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগের নামে অর্থবাণিজ্যও চলছে। গোটা জেলায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক ও শতাধিক সুপারভাইজার নিয়োগের কথা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষকপ্রতি ১০-২০ হাজার এবং সুপারভাইজার প্রতি ৪০-৬০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

যশোর সদর উপজেলার হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেছেন, সুপারভাইজার পদে নিয়োগের জন্য দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থায় আবেদন করলে আমার কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়েও কোনো নিয়োগপত্র পাইনি। উল্টো সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি প্রতিমন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছি। স্থানীয় পর্যায়ে এমন আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বরাবর একটি আবেদনে জানানো হয়, সাতটি ক্রাইটেরিয়ার কোনোটি পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম নয় এনজিওটি। এজন্য যথাযথ তদন্তেরও আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থাটি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপিপন্থী বলে দাবি করেন হারুন অর রশিদ। এমন সংস্থার হাতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিলে প্রকৃত উদ্দেশ্য নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সমাজের রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।

সেকেন্ড চান্স এডুকেশন নিয়ে যশোর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, ৮-১৪ বছর বয়সী ঝরেপড়া শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকার এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতি উপজেলায় ৪২ মাসের জন্য গড়ে ৭০টি করে স্কুল বা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে। গড়ে ৩০ জন শিশু কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক ও দক্ষতাসৃষ্টিমূলক শিক্ষা অর্জন করবে। প্রতি স্কুলে একজন শিক্ষক এবং প্রতি পাঁচ স্কুলের জন্য একজন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত এনজিও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প ব্যয় অন্তত অর্ধকোটি টাকা।

বজলুর রশিদ বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে দিশা সমাজকল্যাণ সংস্থা নির্বাচিত হয়েছে। তবে তাদের নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছি। এজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, যারা নিয়োগ পাচ্ছেন না তারাই এ ধরনের অভিযোগ করছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমিও শুনেছি তদন্তের কথা। কিন্তু এর পেছনের কারণ আমি জানি না।

মিলন রহমান/এসএমএম/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]