বিড়িতে বৈষম্যমূলক শুল্ক প্রত্যাহার চান শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২১

বিড়িতে বৈষম্যমূলক শুল্ক প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ও কর্মচারী ঐক্য ইউনিয়ন।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বগুড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে রাজস্ব কর্মকর্তার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেন শ্রমিক নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী, কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দীন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বগুড়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম, যুগ্ম-সম্পাদক হেরিক হোসেন, প্রচার সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বিড়ির ওপর অতিরিক্ত চার টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহার, বিড়িতে অগ্রীম ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, সিগারেটের মতো বিড়িতেও তিনটি মূল্যস্তরকরণ, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি ও ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ির ব্যবসা বন্ধ, ভারতের মতো বিড়ি শিল্প সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী বলেন, ‘দেশের প্রাচীন শ্রমঘন বিড়ি শিল্পে সমাজের অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিক বিকলাঙ্গসহ নদী ভাঙন কবলিত ও চর এলাকার মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ক্রমাগত মূল্যস্তর বৃদ্ধি, শুল্ক বৃদ্ধি এবং বৈষম্যমূলক শুল্কনীতির কারণে শিল্পটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিড়ি শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। কর্ম হারিয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের কর্ম রক্ষায় অনতিবিলম্বে বিড়িতে বৈষম্যমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি বলেন, ‘চলতি বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়ির মূল্যস্তর চার টাকা বাড়ানো হলেও সিগারেটে মাত্র দুই টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা চরম বৈষম্যমূলক ও বিড়ি শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের অনাকাঙিক্ষত মূল্যস্তর বৃদ্ধিতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।’

তিনি বলেন, বিড়ির মূল্যস্তর বৃদ্ধিতে বিড়ির বাজার নকলবাজদের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে সরকার বিড়ি থেকে প্রকৃত ট্যাক্স আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বগুড়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, বিড়ি শ্রমিকরা চরম অসহায়ত্বের জীবনযাপন করছেন। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে তারা কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন। তিনি বিড়িতে শুল্ক কমিয়ে বঙ্গবন্ধুর সময়ে বিড়ি শ্রমিকদের যেভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছিল সেভাবে সুযোগ-সুবিধার দাবি জানান।

এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।