স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী নেই, বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৪ মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

দ্বিতীয় ধাপে যে তিন পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনাজপুর পৌরসভা। পৌরসভায় মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নেই কোনো স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী।

দিনাজপুর পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ, ধানের শীষ প্রতীকে বর্তমান মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পাটির সভাপতি আহম্মেদ শফি রুবেল, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট মো. মেহেরুল ইসলাম ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান রানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিছিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান রানা। তিনি এসএসসি পাস। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেদ পারভেজ মাস্টার্স ও এমবিএ, বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বিকম, জাতীয় পাটির প্রার্থী আহম্মেদ শফি রুবেল বিকম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট মো. মেহেরুল ইসলাম বিএ এবং এলএলবি পাস।

বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা চলমান। এছাড়া আরও তিন মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেদ পারভেজ একটি ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। অন্য তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী
প্রথমবারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন রাশেদ পারভেজ। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় কৃষিখাত থেকে ৪৩ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া ব্যবসা, ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও পরামর্শক থেকে কী পরিমাণ আয় হতে পারে তা উল্লেখ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। নগদ ছয় লাখ ও ব্যাংকে নিজ নামে পাঁচ লাখ টাকা জমা রয়েছে। রয়েছে একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল। কৃষিজমি ৩ একর এবং অকৃষি জমি ০.৪৪২৫ একর। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ১০ লাখ টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। কোনো দায়দেনা নেই।

বিএনপি প্রার্থী

তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন বর্তমান মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। পেশা কৃষি ও ব্যবসা। বার্ষিক আয় মেয়রের সম্মানীসহ সাত লাখ ৪৮ হাজার ৮৯৬ টাকা। যার মধ্যে কৃষি থেকে ৩০ হাজার, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া থেকে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৯৬ টাকা আয় হয়। তার হাতে রয়েছে তিন লাখ আর ব্যাংকে জমা রয়েছে ১০ হাজার টাকা। দুর্নীতি, রাজনৈতিকসহ চারটি মামলা রয়েছে। একটি হত্যাসহ তিন মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। স্ত্রীর নামে নগদ ১০ হাজার ও ব্যাংকে এক লাখ ৫০ হাজার এবং ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও এক টি মোবাইল রয়েছে। তিনি পৌর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী

প্রথমবারের মতো মেয়র পদে অংশ নিয়েছেন জাতীয় পাটির প্রার্থী আহমেদ শফি রুবেল । হলফনামায় বার্ষিক আয়ের পরিমাণ নেই। নেই কোনো মামলাও।

বাংলাদেশের কমিনিউস্ট পাটি
অ্যাডভোকেট মো. মেহেরুল ইসলাম প্রথমবার মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। পেশায় আইনজীবী মেহেরুল ইসলামের বার্ষিক আয় কৃষি ও আইন পেশা থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার নামে কোনো মামলা নেই। তিনি পৌর শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান রানা প্রথমবারের মতো মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তিনি পেশায় গুঁড়া ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় কৃষি থেকে ৩০ হাজার ও গুঁড়ার ব্যবসা থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ টাকার পরিমাণ এক লাখ টাকা এবং ব্যাংকে আছে এক হাজার ১০০ টাকা।

পাঁচ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে তাদের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় কী পরিমাণ করবেন তাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাশেদ পারভেজ দুই লাখ, বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম তিন লাখ, জাতীয় পার্টির আহম্মেদ শফি রুবেল পাঁচ লাখ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট মো. মেহেরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান রানা দেড় লাখ করে নির্বাচনী ব্যয় করবেন।

এমদাদুল হক মিলন/এএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।