দিনমজুরের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিতে চান চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের বাসিন্দা ছাকোয়াত আলী (৪৫)। দিনমজুরের কাজ করে সাড়ে ১৬ শতক জমি কিনেছেন তিনি। সেই জমিটুকুও বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা প্রভাব খাটিয়ে ও মারধর করে জোরপূর্বক দখল নিতে চাইছেন!

সোমবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে এসবের প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন দিনমজুর ছাকোয়াত আলী।

এদিকে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও এদিন তাড়াশ থানাতেই উল্টো অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা।

উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনমজুর ছাকোয়াত আলী পার্শ্ববর্তা বস্তুল গ্রামের আব্দুল মতিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১৪ সালে পলাশী গ্রামের দক্ষিণ মাঠে সাড়ে ১৬ শতক জমি কেনেন। এই জমিতে তিনি ধানের আবাদ করে আসছিলেন।

এদিকে বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তাও আব্দুল মতিনের কাছ থেকেই ২০১৯ সালে ২১ শতক জমি কিনেছেন। ওই জমি দিনমজুর ছাকোয়াত আলীর কেনা জমির আইল ঘেঁষা।

রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা কয়েকজন শ্রমিককে দিয়ে ছাকোয়াত আলীর জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদের জন্য পরিচর্যার কাজ করাতে থাকেন। তখন বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যানের ভাই মনি ও ভাগ্নে আল মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন মিলে ছাকোয়াত হোসেন, তার স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন এবং তার দুই ছেলে তারিকুল ও ছানোয়ারকে জমিতেই বেধড়ক মারধর করেন।

ছাকোয়াতের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন বলেন, ‘চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তার উপস্থিতিতেই তার লোকজন মারধর করেছেন। চেয়ারম্যান নিজেও তার ছোট ছেলে ছানোয়ারকে (১৪) কুসুম্বী-পলাশী আঞ্চলিক সড়কের ওপর ধরে এলোপাথাড়ি লাথি মেরেছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন, জমির দখল নিতে বাধা দিলে সেচযন্ত্র চুরির মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা হবে।’

দিনমজুর ছাকোয়াত হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালে জমিটুকু কেনা হলেও নামপত্তন করা হয়ে ওঠেনি। পরে শত চেষ্টা করেও আর তা করা সম্ভব হয়নি। কারণ, চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা এরইমধ্যে ওই জমির নামপত্তন করে নিয়েছেন।’

চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন মুক্তা বলেন, ‘তার নামপত্তন করা জমিতে ছাকোয়াতরা জোরপূর্বক আইল ভেঙে দিচ্ছিলেন। তিনি শুধু তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছেন মাত্র।’

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক বলেন, উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছেন। আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।