ঝিনাইদহ বিএনপি

হামলার ঘটনা আড়াল করতে জামায়াত নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতারা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যু নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ‌‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ করছে বলে দাবি করেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে জামায়াতের চিহ্নিত ‘সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায়’ কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

রোববার (১৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করের জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, এম শাহজাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলমসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাধবপুর গ্রামের তরু মুন্সিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে তরু মুন্সি মুন্সির মৃত্যু নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। জেলা বিএনপি জামায়াতের এমন প্রোপাগান্ডার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যু, পরিস্থিতি থমথমে

এতে আরও বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি করা’ দলের নেতারা আনুমানিক সকাল ১০টার এ ঘটনাকে ‘ইফতার মাহফিলে বিএনপির হামলা’ এবং তরু মুন্সির হত্যাকাণ্ডকে অতিরিক্ত ডায়াবেটিস ও হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। অথচ তরু মুন্সির মাথায় ও পায়ে সুস্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন আছে। সুরহাতাল ও সিটিস্ক্যান রিপোর্টেও আঘাতের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হন। এসময় প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সেখানে গিয়ে তালিম করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

এ ঘটনায় শনিবার নিহত তরু মুন্সির ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি (২৩) বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার ১ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তবে জামায়াতে ইসলামীর দাবি, ‘স্ট্রোক ও উচ্চ ডায়াবেটিস’ জনিত কারণে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সির মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন।

এম শাহাজান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।