শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:৫৯ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

আগামী ১৬ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে তেমন কোনো উৎসব বা আমেজ পাচ্ছেন না ভোটাররা।

তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে বিএনপির প্রার্থী তেমন শক্তিশালী নয়। ফলে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন জমবে না। তবে মেয়র পদে নির্বাচন না জমলেও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন জমে উঠেছে।

ভোটাররা বলছেন, অন্যান্য জেলার পৌরসভা থেকে সুনামগঞ্জ পৌরসভা উন্নয়নে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এমনকি শিশুদের বিনোদনের জন্য নেই কোনো বিনোদন পার্ক ও মেয়েদের জন্য নেই খেলার মাঠ। তারপরও সততার সঙ্গে যে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবে এবং শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক তৈরি করে দিবে এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান তারা। তবে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। বড় দুই দলের প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করার জন্য দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

jagonews24

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে তিনজন মেয়র প্রার্থী, ৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১৩ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরসহ মোট ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৩টি কেন্দ্রের ১২৬টি ভোটকক্ষে ৪৭ হাজার ১৫ ভোটারের ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটারদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৩৮ জন পুরুষ এবং ২৩ হাজার ৭৭৭ জন নারী।

সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পৌরসভার অলিতে গলিতে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় ঝুলছে তাদের ছবিযুক্ত পোস্টার। কেউ মিছিল দিয়ে জানান দিচ্ছেন, ‘১৬ তারিখ সারাদিন ধানের শীষের ভোট দিন’, ‘নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নের জুয়ারে ভাসবে সুনামগঞ্জ পৌরসভা’ বলে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি।

পৌরসভার বাসিন্দা আকমল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, এ বছর প্রথম ভোটার হয়েছি তবে এর আগের নির্বাচনগুলোও দেখেছি। অনেকেই নির্বাচনের আগে নানা ধরনের আশ্বাস দেন কিন্তু ভোটে জয় পাওয়ার পর আর কোনো খোঁজ খবর থাকে না। সেজন্য এবার বুঝে শুনে একজন সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করবো।

jagonews24

নারী ভোটার তাহমিনা আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, অন্য জেলার পৌরসভা থেকে আমাদের সুনামগঞ্জ পৌরসভা অনেক পিছিয়ে। শিশুদের মন ভালো করার জন্য নেই কোনো বিনোদন পার্ক, মেয়েদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ। আমরা চাই যেই নির্বাচিত হোক ওই কাজগুলো যেন সবার আগে করেন।

পৌরসভার বাসিন্দা তানভীর আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর তিনবার সুনামগঞ্জে বন্যা হয়েছে। সেই বন্যার পানিতে আমাদের দোকান পাট তলিয়ে গেছে। আমরা পৌরবাসী জোর দাবি জানাই, যেই পৌরসভার মেয়র হোক সবার আগে যেন শহররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়।

পৌরসভার বাসিন্দা তম্ময় আহমদ জাগো নিউজকে জানান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন জমে উঠেনি কারণ বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেশি শক্তিশালী। তবে মেয়র পদে নির্বাচন না জমলেও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন জমে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নাদের বখত্ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিগত দুই বছর চার মাস যাবত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। প্রতিটি এলাকায় উঠান বৈঠকের আয়োজন করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি দৃষ্টিনন্দন পৌরসভা গঠন করতে চাই। সবাই মিলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন।’

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুর্শেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়ক, ড্রেনেজ, সড়কবাতি সমস্যার সমাধান এবং ইভটিজিং ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠন করবো। মানুষ বিশুদ্ধ পানির সমস্যায় রয়েছেন, নিয়মিত সাপ্লাইয়ের পানি পাচ্ছেন না। বর্ষায় শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ময়লা আবর্জনা মানুষের বাড়ি-ঘরে ঢুকে যায়। শহরের বর্ধিত এলাকায় নেই কোনো আলোকবাতি। নির্বাচিত হলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল কলেজের ছাত্রীদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করবো। কারণ আমাদের শহরে মেয়েদের কোনো খেলার মাঠ নেই। ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে আমি সব নাগরিক সমস্যার সমাধান করবো।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও নির্বাচন কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, নির্বাচনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আশা করি সুনামগঞ্জ পৌরবাসীকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’

লিপসন আহমেদ/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]