রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৯:০৬ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

জামালপুর জেলার একমাত্র আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমাকে (৭৩) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জেলার বকশীগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের দিঘলাকোনা গ্রামে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় তার। পাকস্থলীর ক্যান্সারে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমার কফিনে জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন করেন নির্বাহী হাকিম বকশীগঞ্জের ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা ও বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ও মজিবর রহমানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে খ্রিস্টীয় রীতি অনুসারে পারিবারিক সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমা তার স্ত্রী মিলন দাংগো ও একমাত্র ছেলে জয় দাংগোসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। জামালপুর জেলায় তিনিই ছিলেন একমাত্র আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে টানা ৯ মাস যুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি প্রথমে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় এবং পরে জামালপুরের ঐতিহাসিক কামালপুরে পাক হানাদারবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখেন।

সামান্য কিছু জমির চাষাবাদ ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় তাদের সংসার চালানোই দায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

সর্বশেষ অক্টোবর মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার পাকস্থলীতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে উন্নত চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মরতে হয়েছে বীর এই মুক্তিযোদ্ধাকে।

এসএমএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]