২ রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ : সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র ও আইনজীবীর জামিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২১

সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের পাসপোর্ট নেয়ার চেষ্টা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম।

বৃস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে তারা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুনামগঞ্জ সদর জোনের বিচারক কুদরত-এ-ইলাহীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক সেলিম নেওয়াজ।

প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্মসনদ দেয়ার মামলায় গত বুধবার সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুনামগঞ্জ সদর জোনের বিচারক কুদরত-এ-ইলাহী। ওই মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালত পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানাপ্রাপ্তরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়াডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন হমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পিযুষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারি পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও সুনামগঞ্জ বারের আইনজীবী কাওসার আলম। এই পাঁচজন মামলার এজহারভুক্ত আসামি নন। পুলিশ অভিযোগপত্রে তাদের নাম যুক্ত করেছে।

তবে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেছেন, ‘যে ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল সে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যখন এসব সনদপত্র দেয়া হয় তখন তিনি ঢাকায় ছিলেন। তখন মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল। তাই এই প্রক্রিয়ার কোনোভাবেই তিনি যুক্ত নন।’

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চার ব্যক্তি জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

ওইদিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

ওইদিনই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ (৩৬), রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন (২৩), সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (২৪) ও আমির উদ্দিনকে (২৩) আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার।

এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার বর্তমান বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেলের সুপারিশে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্ম সনদ নিয়েছিলেন।

এই মামলায় গত ২১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে এজহারভুক্ত চার আসামি ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া পাঁচজনের নাম যুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ ওই কর্তকর্তারা যুক্ত আছেন। পরে সেটি সত্যায়ন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম।

লিপসন আহমেদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]