ভাঙনে ঘরহারা জাহানারা-রীনারা পেল পাকাঘর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ঘর পাচ্ছেন ভোলার সাত উপজেলায় ভূমিহীন, গৃহহীন, অসহায় দরিদ্ররা। ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, চলছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি। জমিসহ ঘর পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভোলার অসহায় মানুষ।

জানা গেছে, ভোলার সাত উপজেলার ৫২০ জন ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ২ শতাংশ জমিসহ দুই কক্ষ, রান্না ঘর ও বাথরুমসহ একটি ঘর পাচ্ছেন। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ১৮২টি, বোরহানউদ্দিনে ২৮টি, দৌলতখানে ৪২টি, লালমোহনে ২০টি, তজুমদ্দিনে ১৮টি, চরফ্যাশনে ৩০টি ও মনপুরায় ২০০টি পরিবার।

Bhola-Home-News-2

আজ শনিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। স্থানীয়ভাবে ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায়দেরকে জমির কাগজপত্র ও ঘর হস্তান্তর শুরু হয়েছে।

এদিকে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটানো ১৮টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমিসহ ঘর পাচ্ছে।

তাদের মধ্যে একজন তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছে। নদী ভাঙনে জমি ও ঘর হারিয়েছি। এরপর থেকে সন্তান নিয়ে রাস্তার পাশে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জমিসহ একটি ঘর দিবেন বলে জেনেছি। শনিবার ঘর পাব, তারপর আর আমার ছেলে-মেয়েকে রাস্তার পাশে থাকতে হবে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পাকা ঘরে শান্তিতে ঘুমাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আজীবন দোয়া করে যাব। আমি মরার পর আমার সন্তানরাও শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবে।

Bhola-Home-News-2

প্রধানমন্ত্রীর জমি ও ঘর পাচ্ছেন বাকপ্রতিবন্ধী আবু তাহেরের মেয়ে রেহানা বেগমও। তিনি বলেন, ‘আমার মা নেই, বাবা প্রতিবন্ধী। নদী ভাঙনে জমি-জমা সব শেষ। আব্বা আর আমি রাস্তার পাশে বসবাস করতাম। এরপর শুনলাম প্রধানমন্ত্রী আমাদের জমি ও ঘর দিয়েছে। আমরা স্বপ্নেও কখনও ভাবিনি যে আমার জমি ও ঘর হবে। সেটাও আবার পাকা। জীবনে যতদিন বাঁচবো ততদিনই প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করব।

ঘর পাওয়া রিনা বেগম বলেন, ‘নদী ভাঙনে জমি ও ঘর বিলীন হওয়ার পর খড়কুটো দিয়ে ঝুপড়ি তুলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকছি। ঝড়-বৃষ্টি হলেই ভিজতে হত। নিজের জমি কেনা বা ঘর করার মতো টাকা-পয়সা তো দূরে থাক খাওয়ার টাকাটাও যোগাড় করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী ঘর দিচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত।’

Bhola-Home-News-2

তিনি আর বলেন, ‘এখন আর আমাদের রাস্তার পাশে ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করতে হবে না। আর কারও কথাও শুনতে হবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

তজুমদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পল্লব কুমার হাজরা জানান, তালিকা তৈরি করে শতভাগ ভূমিহীন, গৃহহীন ১৮ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর দেয়া হচ্ছে। জমি ও ঘর পেলে তাদের কষ্টের দিন শেষ হবে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ভোলার ৭ উপজেলায় ৫২০টি ঘর দেয়া হবে। প্রতিটি ঘরে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পরপরই প্রত্যেককে তাদের জমির কাগজপত্রসহ ঘর বুঝিয়ে দেয়া হবে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]