নিজের বেতনের টাকায় থানায় বাগান করলেন ওসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৭ শতক পতিত জায়গায় নিজের বেতনের ১৫ হাজার টাকা খরচ করে বাগান করলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান। প্রতিদিন পেশাগত দায়িত্ব শেষে বাগানটিকে নিজের হাতে পরিচর্যা করেন। এ বাগানটি পুরো থানাকেই বদলে দিয়েছে, থানার চারদিকে লাল-হলুদের রঙ যে কারো নজর কাড়বে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে থানার সামনে ১৭ শতক পতিত জমিটুকুতে আর্বজনা পড়ে থাকতো। স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ ৪৯ বছরেও এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করে গেছেন তারা এই পতিত জায়গাকে কাজে লাগাতে পারেননি।

কিন্তু বর্তমানে এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান যোগদানের পর থেকে এই জমির চেহারা পাল্টে দিয়েছেন।

jagonews24

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে শীতকালীন নানা ফুল, ফল ও সবজি চাষের সমারোহ। গাছে গাছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গন্ধে আর সবজি আসতে শুরু করায় পাল্টে গেছে থানার চারপাশের এলাকা।

পতিত থাকা জায়গায় টমেটো চাষ, সিম, মূলা, মিষ্টি লাউ, পানি লাউ, লেডিস পাতা, পিঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বেগুন, শশাসহ অনেক রকমের সবজি চাষ করেছেন।

থানায় মসজিদে নামাজ পরতে আসা রাগিব আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, থানার ভিতরে ঢুকলে ফুলের গন্ধ উপভোগ করি, আগে আর্বজনার দুর্গন্ধে থাকা যেতো না। কিন্তু এখন ওই জায়গায় ফুল, ফল ও সবজি বাগান হওয়ায় পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করছে বলে মনে করি।

jagonews24

সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন বাড়ির পাশে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায় এক ইঞ্চি জায়গাও যেন খালি কিংবা পতিত না থাকে।

তিনি বলেন, যোগদানের পর নিজ উদ্যোগে বেতনের প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করে এই ১৭ শতক পতিত জায়গাটুকুতে শীতকালীন বিভিন্ন ফুল, ফল ও সবজি চাষ করা শুরু করি। আমি মনে করি এই ফুল, ফল ও সবজি চাষের কারণে এখানকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই ফরমালিনমুক্ত সবজিগুলো নিজে এবং থানার সকল অফিসার ও সদস্যরা খেতে পারবে।

লিপসন আহমেদ/এসএমএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]