বিড়ি শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেয়ার দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

কুষ্টিয়ায় ছয় দফা দাবিতে সমাবেশ করেছে জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশ থেকে বিড়ির ওপর অতিরিক্ত চার টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহার, বিড়িতে অগ্রিম ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, সিগারেটের মতো বিড়িতেও তিনটি মূল্যস্তরকরণ ও বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অসহায় বিড়ি শ্রমিকরা দ ‘বেলা পেট ভরে খেতে পারে না। কাজ না পেয়ে মজুরির অভাবে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

jagonews24

তারা বলেন, অনলাইনে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দেয়ায় নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়িতে বাজার সয়লাভ হয়ে গেছে। এভাবে অবাধে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দিয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিনা ট্যাক্সে বিড়ি বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিড়ি শ্রমিকরা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক বলেন, বিড়ি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত। শ্রমিকদের দাবি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিতকরণের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।

বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, বিড়ির ওপর মাত্রাতিরিক্ত কর বৃদ্ধির কারণে বিড়ির বাজার নকলবাজদের দখলে চলে গেছে। যেখানে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয় প্রায় ১০ টাকা, সেখানে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭-৮ টাকায়। এতে একদিকে বৈধ বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বিড়ি কারখানায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাচ্ছেন। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

আগামী বাজেটে বিড়ির ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে বলে হুমকি দেন তিনি।

আল-মামুন সাগর/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]