কর দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না নালিতাবাড়ী পৌরবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ১১:৪০ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১
নালিতাবাড়ী পৌরসভা

প্রতিষ্ঠার দুই যুগে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু খুব একটা পরিবর্তন হয়নি নালিতাবাড়ী পৌরবাসীর ভাগ্য। নির্মিত হয়েছে নতুন পৌর ভবন; কিন্তু নিশ্চিত হয়নি শতভাগ নাগরিক সুবিধা। পৌরবাসীর অভিযোগ, ভোটের সময় প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি থাকলেও জয়ের পর সবই ভুলে যান তারা। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

নালিতাবাড়ীতে নাগরিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থায় নাকাল বাসিন্দারা। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে নিশ্চিত হয়নি সুপেয় পানির সরবরাহ। পৌরশহরে নেই পাবলিক টয়লেট, এতে ভোগান্তিতে থাকতে হয় সাধারণ মানুষের। মহাসড়কের পাশেই ময়লার ভাগাড়, বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পানি বের হবার উপায় নেই শহরের ড্রেন দিয়ে, এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী।

শহরজুড়ে যত্রতত্র রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজির স্ট্যান্ড; যার কারণে নালিতাবাড়ীতে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে ভোগান্তির আরেক নাম যানজট। নিয়মিত টোল দিলেও ছোট যানবাহগুলোর নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ে না; দ্রুত নির্ধারিত স্ট্যান্ডের প্রয়োজন বলে জানালেন সিএনজি চালক আলমাছ মিয়া।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর চেহারা ভালো হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। যার কারণে বাসাবাড়ির সামনেই ময়লার স্তূপ করে রাখতে হয় পৌরবাসীর। সময় মতো তা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, বাড়ে মশার উপদ্রব। মিনারা বেগম নামের এক গৃহিনী বলেন, ‌‘মেয়রসাব তো এখনো ময়লার বিষয়টা আমলেই নেন নাই। এজন্য তো মশার কামড়ে আমরা অতিষ্ঠ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বর্তমান মেয়র তো উনার সরকারি রুটিন কাজগুলোই করছেন। এর বাইরে তো উনি কিছু করেন নাই, আমাদের জন্য। আমাদের সেবার মানেরও তো উন্নতি হয় নাই।’

এবার নালিতাবাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক। গত মেয়াদে নিয়মিত কাজ করলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের যানজট, পৌর টেন্ডারসহ কিছু বিষয়ে মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা বিভিন্ন সময়ের মেয়রসাব তার কাছের লোকদের দিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ করাইছেন। নিজের লোকদের দিয়ে কাজ করানোর কারণে কাজের মানও খুব খারাপ হইছে। ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়ন নিয়েও মেয়রসাব খুব ঝামেলা করছেন; ২০২০-২১ সালের নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিজের লোকদের দিয়ে কাজ করাইছেন; এগুলা তো ঠিক হয় নাই তার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, ‘সরকার প্রধান যেখানে বিজয় দিবসের সব অনুষ্ঠানে গণজমায়েত বাদ দিতে বলেছিলেন, সেখানে আমাদের মেয়র বিজয় দিবসের (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দশ হাজার মানুষ জমায়েত করে তার নির্বাচনী মিছিল করছেন। সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করা তো একজন মেয়রের ঠিক হয় নাই।’

নাগরিক সমস্যার কথা স্বীকার করলেও মেয়রের দাবি উন্নয়নে চেষ্টার কমতি ছিল না। নির্বাচন ঘিরে ফের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘গত মেয়াদে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ ছিল, যা সম্পন্ন করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি কমিটি করেছি। এবার জয়ী হলে সব অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করে সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে সরকার-দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকির ভয়ে প্রচারণাও ঠিকভাবে করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক শহরের আড়াইআনি বাজারে আমার মাইক প্রচারককে হুমকি দিয়ে ব্যানার খুলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আমরাও চাই। মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে আমিই বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শানিয়াজ্জামান তালুকদার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছে। এখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

নালিতাবাড়ী পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ১৩৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৬৩১ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৫০২ জন। আগামী ৩০ জানুয়ারি (শনিবার) পৌরবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ইমরান হাসান রাব্বী/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]