ছেলের খুনির ফাঁসির রায়ে খুশি হয়ে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ ছাড়লেন বৃদ্ধা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হাওয়ারুন নেছা (৭০)। এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। তবে ২০১৩ সালের ৯ মে হাওয়ারুন নেছার সংসার তছনছ হয়ে যায়। ওই দিন বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে সামরান ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
ছেলেহারা হাওয়ারুন নেছা শোকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করতে শুরু করেন তিনি। তবে দীর্ঘ আটবছর পর রোববার (৩১ জানুয়ারি) তিনি কারও থেকে আর ভিক্ষা নেননি। কারণ এদিন আদালতে তার ছেলে সামরান হত্যা মামলার রায় হয়েছে।
রায়ে হত্যাকারী তাজ উদ্দীনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এতে খুশি হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছেন হাওয়ারুন নেছা। এদিন ভিক্ষা করার বদলে এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে নিজের সন্তান হত্যাকারীর ফাঁসির রায় হওয়ার খবর দিয়েছেন হাওয়ারুন।
জানা গেছে, রোববার বিকালে সামরান হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাজ উদ্দিনকে (৫৪) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত বিচারক নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপু। পাশাপাশি খুনি তাজ উদ্দীনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সোহেল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় তাজ উদ্দীনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। তবে মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৯ মে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের সামরানকে একই গ্রামের তাজ উদ্দীনসহ কয়েকজন ছুরিকাঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।
পরদিন নিহতের মা হাওয়ারুন নেছা তাজ উদ্দীনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ আট বছর পর রোববার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, সামরানকে হত্যার পর তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করতে শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছর পর ছেলের হত্যাকারীর ফাঁসির রায় হয়েছে। এজন্য কারও থেকে আর ভিক্ষা নিচ্ছেন না তিনি।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুলতানা আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সামরান হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলাম। আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে এলাকাবাসী ও সামরানের মা খুশি। দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।’
লিপসন আহমেদ/এএএইচ