বিধবার ৬০ লাখ টাকার জমিতে দস্যুর চোখ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

লক্ষ্মীপুরে হোসেনেয়ারা বেগম নামে এক বিধবার ১৫৩ শতাংশ জমিতে চোখ পড়েছে ভূমিদস্যুর। প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এ জমি দখলে নিতে মমিন উল্যা নামে এক ব্যক্তি (দালাল) পাঁয়তারা করছে। হোসনেয়ারার ছেলেদের বিরুদ্ধে গ্রাম্য আদালতে মামলা ও মারধরের হুমকি দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রামে। ওই এলাকায় মমিন ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত।

jagonews24

এদিকে মমিন উল্যা ও তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হোসনেয়ারার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাদির আইনজীবী নজরুল ইসলাম মহসিন জানান, ম্যাজিস্ট্রেট রিপামনি দেবী অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। আগামি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযুক্ত মমিনকে এ ঘটনায় কাগজপত্র নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

jagonews24

অন্যদিকে গ্রাম্য আদালতেও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনির কাছেও মমিন জমির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। যদিও ইউনিয়ন পরিষদে মমিন নিজেই অভিযোগ করেছেন। পরে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মমিনের দাবি না মঞ্জুর করে চেয়ারম্যান রনি লিখিতভাবে হোসনেয়ারার পক্ষে রায় দেয়। একই সঙ্গে ওই জমির ধান বিক্রির ১০ হাজার টাকা হোসনেয়ারাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

সূত্র জানায়, তৌহিদের মা হোসনেয়ারার নামে জমিটি রেজিষ্ট্রি করা রয়েছে। হোসনেয়ারা কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের চরলরেঞ্চ গ্রামের মৃত ঈমান আলীর স্ত্রী। সদর উপজেলার পশ্চিম চরমনসা গ্রামে ১৫৩ শতাংশ জমিতে বর্গাচাষী নুরনবী দীর্ঘ কয়েক বছর ফসল আবাদ করেছে। এ জমির মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। মেঘনা নদী ভাঙন এলাকা কমলনগরের চরলরেঞ্চ গ্রামের তৌহিদদের মূল বাড়ি। যে কোনো সময় তাদের বাড়িটি নদীর ভাঙনে হারিয়ে যেতে পারে। এজন্য তৌহিদ চরমনসা গ্রামে মায়ের জমিতে বাড়ি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর মমিন উল্যা তার বাবা সাফি উল্যার নামে ভূয়া দলিল দেখিয়ে ওই জমির খাজনা পরিষদ করে। মমিন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের বাসিন্দা। ব্যক্তিগতভাবে মমিন জমি কেনাবেচার মাধ্যম (দালাল) হিসেবে কাজ করেন। খাজনা দেওয়ার পর থেকেই মমিন জমিটি নিজের বলে দাবি করছে। ইউনিয়ন পরিষদে মামলা করে হেরে গিয়ে মমিন ও তার ছেলে রাসেল মোবাইলফোনসহ বিভিন্নভাবে তৌহিদকে মারধরের হুমকি দিচ্ছেন।

jagonews24

বর্গাচাষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি দখলে নিতে পটু। এজন্য এলাকায় সে ভূমি দস্যু হিসেবে পরিচিত। ভূয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে মমিন অনেকের জমি দখল করে মোটা অংকে বিক্রি করেছে।

জমির মালিক হোসেনেয়ারার ছেলে তৌহিদুর রহমান বলেন, আমার মায়ের জমিটি মমিন দখলের পাঁয়তারা করছে। জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য চলমান কাজ মমিন ভাড়াটে লোকজন দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। মামলায় হেরে গিয়ে এখন বিভিন্নভাবে আমাকে মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। একপর্যায়ে সে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মমিন ও তার ছেলে আমাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে।

jagonews24

অভিযোগ অস্বীকার করে মমিন উল্যা বলেন, জমিটি আমাদের। কাগজপত্রও রয়েছে। আমি কাউকে হুমকি দেইনি। জমি বুঝে পেতে আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি জানান, জমি নিজের দাবি করে মমিন উল্যা একটি অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু মমিন সঠিক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। মূলত কাগজপত্র অনুযায়ী হোসনেয়ারা জমির প্রকৃত মালিক। হোসনেয়ারা ও তার ছেলেদের হয়রানি না করতে মমিনকে বলে দেওয়া হয়েছে।

কাজল কায়েস/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।