বগুড়ায় বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যু, আটক ৪
বগুড়ায় বিষাক্ত মদ খেয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
বগুড়ার সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, মুন হোমি, পারুল হোমিও, করতোয়া হোমিও, করমোটেরি হাসান হোমিও হল থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরিজের স্বত্বাধিকারী নুরুন্নবী ওরফে নুরনবী (৫৮), শহরের গলাপট্টি এলাকায় মুন হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক (৫৫), করতোয়া হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী শহিদুল আলম সবুর (৫৫) ও হাসান হোমিও হলের কর্মচারী আবু জুয়েল (৩৫)।
বগুড়ায় 'বিষাক্ত মদপানে' এ পর্যন্ত আব্দুর রহিম (৪২), পুরান বগুড়ার ক্ষিতিশ ওরফে ভেলু (৬০) ও বগুড়া সদরের ফাঁপোড়ের দিলবর রহমার দিলীপ (৬০) তিনজনসহ ১৮ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
বিষাক্ত মদ বিক্রির বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি মামলা দায়ের করেন বিষাক্ত অবস্থায় আহত হাসপাতালে ভর্তি রঞ্জুর বড় ভাই মনোয়ার।
মামলার আসামিরা হলেন- খান হোমিও হলের মালিক শাহিনুর রহমান শাহীন, পারুল, পুনম ও ইউনিয়ন হোমিও হলের মালিক নুর আলম, নুর মোহাম্মদ ও নুর নবী। নুর আলম, নুর মহাম্মদ ও নুর নবী এরা তিনজন আপন ভাই।
এ ঘটনায় হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
এই অভিযানে অনুমোদনহীন, মিস ব্র্যান্ডেড ওষুধ, রেজিস্ট্রারবিহীন ওষুধ, লাইসেন্সবিহীন ও চিকিৎসক ছাড়া হোমিও ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দু’টি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে জেলা শহরের গালাপট্টির মাহী হোমিও হলের এ কে এম রুহুল আমিনকে (৪৬) অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে অনুমোদনহীন, মিস ব্র্যান্ডেড ওষুধ, লাইসেন্সবিহীন ও চিকিৎসক ছাড়া হোমিও ওষুধ বিক্রির অভিযোগে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট তাসনিমুজ্জামান আরও একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বগুড়া শহরের গালাপট্টির মোড়ের দি মুল হোমিও হলে। সেখানেও একই অপরাধে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পৃথকভাবে আরো ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে।
আরএইচ/এএসএম