রহস্য বাড়াচ্ছে ট্রেনে কাটা মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেল জংশনে হঠাৎ করেই ট্রেনে কাটা মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। প্রতিমাসে গড়ে চারজন করে মারা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পরিচয় মিলছে না। ফলে ছিন্নবিচ্ছিন্ন লাশগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় দাফন করা হচ্ছে।

এদিকে, একের পর এক কেন এতো অপমৃত্যু তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি রেলওয়ে থানা পুলিশ। অপমৃত্যুর বেশিরভাগ মামলায় অনুদঘাটিত থাকায় অপরাধ সংগঠনের সুযোগ থাকছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, বড় এই রেলওয়ে জংশনে প্রয়োজনের তুলনায় রেল পুলিশের সংখ্যা অতি নগন্য। এ কারণে দুর্বৃত্তরা অপরাধ সংগঠনের সুযোগ নিতে পারে। যে কোনো হত্যাকাণ্ডকে ট্রেনে কাটা মৃত্যু বলেও প্রচারের সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের উত্তর পাশের বস্তি এলাকা অতিক্রমের সময় এক যুবক কাটা পড়ে মারা যায়। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে পড়ে অজ্ঞাত এই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগের শনিবার সন্ধ্যায় পাঁচানীপাড়া নামক স্থানে ট্রেনে কাটা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ও শুক্রবার রাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে অজ্ঞাত পৃথক আরও দুটি লাশ উদ্ধার করে রেল পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে ট্রেনে কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ২৫টি। এরমধ্যে ১৪ লাশেরই কোনো সন্ধান মিলেনি।

রেলওয়ে পুলিশের অপমৃত্যু রেজিস্ট্রার হিসাব ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন এলাকায় ট্রেনে কাটা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ১১ লাশের পরিচয় মিলেছে। বাকি ১৪টি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রেলওয়ে থানা পুলিশের দাবি, অসাবধানতায় রেল লাইন পারাপার, ট্রেনের ছাদে ও দরজায় ভ্রমণ, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা, কুয়াশায় ট্রেন দেখতে না পাওয়া, ট্রেনের ছাদে ঘুমিয়ে পড়া, ট্রেন দুর্ঘটনা ও বগির সংযোগস্থলে বসে ভ্রমণ এবং থামার আগেই ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজের আলী বলেন, ট্রেনের কাটা মৃতদের চেহারা ও দেহ বীভৎস হয়ে যায়। ফলে অনেকেরই নাম-পরিচয় জানা যায় না। কিছু লাশের কাপড় ও ম্যনিবাগে রাখা পরিচয়পত্র দেখে শনাক্ত হলে যোগাযোগ করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। সাধারণ মানুষ ট্রেন ভ্রমণে সচেতন হলে নিহতের সংখ্যা কমবে।

তিনি আরও জানান, ২০০ কিলোমিটারের সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন এলাকায় রয়েছে দক্ষিণে নাটোরের মালঞ্চি ও উত্তরে দিনাজপুরের হিলি এবং পূর্ব দিকে বগুড়ার সোনাতলা। বিশাল এ কর্ম এলাকায় আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন ওসি, সাব-ইন্সপেক্টর, মুন্সি ও কনেস্টেবলসহ সর্বমোট ৩৫ পুলিশ সদস্য।

স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, প্রতিদিন সর্বমোট ৩৬টি ট্রেন চলাচল করে। আমরা শুধু ট্রেনের যাত্রীদের সেবায় দায়িত্ব পালন করি। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় রেল পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী কাজ করে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সম্প্রতি এ স্টেশনের আওতায়ভুক্ত এলাকায় ট্রেনে কেটে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে।

এএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।