সিলেটে করোনা টিকা গ্রহণকারীরা যা বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সারাদেশের মতো সিলেটেও করোনার (কোভিড-১৯) টিকাদান (ভ্যাকসিন) শুরু হয়েছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে সিলেটে কোভিড-১৯ টিকা দেয়া শুরু হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

পরে সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেন।

বেলা ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত কেন্দ্রের ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর বুথে তিনজনের টিকাদানের মাধ্যমে সিলেটে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নেয়া প্রথম পাঁচজন হলেন-সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি, জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, সাংবাদিকদের মধ্যে জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, চিকিৎসকদের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান রুমান এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যথেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন।

jagonews24

রোববার দুপুরে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করার পর পৃথক প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, ভয় নয়, করোনার টিকা গ্রহণের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। শরীরেও কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। একই সঙ্গে, টিকা গ্রহণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন জানিয়ে তারা সকলকে নির্ভয়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সিলেটে প্রথম টিকাগ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। টিকাগ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি পুরো সুস্থ আছি। আগের চেয়ে বরং ভালো আছি। কারণ টিকা দিয়ে করোনার ভয় অনেকটা কেটে গেছে, বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথম টিকা নিতে পেরেও আমার ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘টিকা গ্রহণের পর আমার শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ফলে সবাইকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই টিকা গ্রহণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিভাগীয় কমিশনারের পর টিকা নেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম। টিকা নেয়ার পর তিনি বলেন, ‘টিকা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। আমি নিজেও টিকা নিয়েছি। আজ (রোববার) এখানে নানা বয়সের মানুষ টিকা নিয়েছেন। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ফলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। অপপ্রচারে কেউ কান দেবেন না।’

সিলেটে টিকার কোনো সঙ্কট হবে না বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

একই সময়ে টিকগ্রহণ করেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদও। বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নিয়েও শুরুতে অনেক আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। টিকার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। অনেক আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু আজ আমি নিজে টিকা গ্রহণ করেছি এবং এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। শরীরে কোনো পরিবর্তন নেই। এখন পর্যন্ত সিলেটে যারা টিকা নিয়েছেন তারা সবাই সুস্থ আছেন। ফলে টিকা নিয়ে অপপ্রচারও ভুল প্রমাণিত হলো।’

সিলেটে প্রথমদিনে টিকা গ্রহণ করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক কৃতি ফুটবলার রনজিত দাশ। প্রায় নব্বই বছর বয়সী এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। তবে টিকা গ্রহণের পর হাসি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তার ভালো লাগার কথা। টিকা নিয়েছেন রনজিত দাসের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও।

jagonews24

প্রথমদিনে টিকাগ্রহণ করেছেন সিলেটের একাধিক জনপ্রতিনিধিও। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস, তৌফিক বক্স লিপনসহ কয়েকজন কাউন্সিলর টিকা গ্রহণ করেন।

এসময় তারা বলেন, ‘জনগণের মধ্য থেকে বিভ্রান্তি দূর করতে আমরা আগে টিকা নিলাম। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষকে উৎসাহিত করতেই আমরা আগে নিয়েছি। টিকা গ্রহণের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।’

ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি সিলেট বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালেও সকাল থেকে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা টিকা গ্রহণ করেন।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য গঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন কমিটির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমরা সফলভাবে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছি। ভ্যাকসিন নিয়ে কারো মনে ভয় সংশয় থাকার কোনো কারণ নেই। করোনাযুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধারা এরই মধ্যে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে উৎসাহমূলক বক্তব্য শুনেছি। ফলে সবাইকে নির্ভয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

jagonews24

সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে আরও যারা টিকা নিয়েছেন তারা হলেন-সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিশির চক্রবর্তী, সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল, সিলেট ওসমানী মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন, হাসপাতালের সেবিকা রাখি রানী সাহা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর ইসলাম জানান, সিলেট নগরে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে করোনার টিকা দেয়া হবে। ওসমানী হাসপাতালে ১২টি বুথে থাকবে ১২টি দল। এখানে দৈনিক ১২শ জনকে টিকা দেয়ার সক্ষমতা আছে। এছাড়া পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে একটি বুথে থাকবে একটি দল। প্রতিটি দলে সেচ্ছাসেবক, সেবিকা ও চিকিৎসক থাকছেন।

ছামির মাহমুদ/এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।