ফুলে ফুলে শোভিত মোংলা
এসে গেছে শীতের বিদায় লগ্ন। গাছে গাছে পলাশ ও আমের মুকুলের আগমনে প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে বসন্তের। সকালে শিশির বিন্দুতে ভিজে লাল টকটকে হয়ে উঠেছে ডালিয়া। রাতভর শিশির স্নানে রঙ ধরছে চন্দ্রমল্লিকাতেও।
হিমেল হাওয়ায় সতেজ হয়ে উঠছে গাদা ফুলের গাছগুলো। গাছগুলোতে নেচে বেড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের প্রজাপতি। ফুল বাগানে ছড়িয়ে পড়েছে রঙিন ফুলের সৌরভ। এমনই ফুলের পরশে মোহনীয় হয়ে উঠছে মোংলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দর্শনীয় স্থান, সড়ক, সড়ক দ্বীপ ও নার্সারি।
উঁচু ভবন থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক টুকরো মাটিতে ফুলের গালিচা বিছানো। গাছের পাতার ভাঁজে ভাঁজে হেসে উঠছে সবুজ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।
মোংলা মাদ্রাসা রোডসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে নানা রঙের ফুল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুল ও ফুলের চারা বিক্রি করা হয়।
এছাড়া মোংলার প্রধান প্রধান সড়কের মাঝে রয়েছে ফুল গাছ। পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত দেখাশুনা করছেন এ গাছগুলোর। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনগুলোর সামনে, প্রতিটি নার্সারিতে হরেক রকম ফুল ফুটেছে।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে ফুলের বাগান। দেশি ফুলের পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিদেশি ফুলেরও বাহার।

রয়েছে শতাধিক প্রজাতির গাঁদা ফুল। বিদেশি গাঁদার মধ্যে রয়েছে- মেরি গোল্ড, ইনকা, জাম্বু, চাইনিজ, ফায়ার বন, ভারত থেকে আনা পানচাটিয়াসহ প্রায় শতাধিক গাঁদা ফুল। এছাড়া রয়েছে- কালগোলাপ, সবুজ গোলাপ, লাল গোলাপ, ভিনকা, স্নোবল, জারবেরা, ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা রকমের ফুল।
দেশি ফুলসহ আরও রয়েছে- জবা, টগর, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামিনী, বেলী, জুঁই, চামেলী, রঙ্গন, একঝাড়া, বারবিনা, স্টার, ফলিয়ক্স, নয়নতারা, কালেনগোলা, সানবিয়া, ন্যাশটোসিয়াম, পিটুলিয়া, ইসকাস্লোবালসহ হাজারো প্রজাতির ফুল।
মোংলা শহরে ফুল বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, সারাদিন লোক আসে ফুল দেখতে। তবে লোকচক্ষুর আড়ালে অনেকে ফুল নিয়ে যায়। সারাদিন পাহারা দিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করেও যদি জমি ছেড়ে দিতে হয় তা হলে বেঁচে থাকার কোনো পথ আর থাকে না। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করতে হয়। এতে অনেক খরচ হয়।
তিনি নার্সারি করার জন্য সরকারের কাছে খাস জমি বরাদ্দের দাবি জানান।
এরশাদ হোসেন রনি/এসএমএম/এমএস