সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিল্পীকে মারধরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার (সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা) মো. আল মামুনের বিরুদ্ধে শিল্পীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিকার চেয়ে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মারধরের শিকার শিল্পী মনির হোসেন মল্লিক। তিনি ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমিতে নৈশ প্রহরী (আউট সোর্সিংয়ে) হিসেবে কাজ করছেন।

মনির হোসেন মল্লিক লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের নাস্তা দিতে বলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহমেদ হাসান। নির্দেশনা অনুযায়ী নাস্তা দিতে শুরু করলে কালচারাল অফিসার মো. আল মামুন মনির হোসেনকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তাকে চর-থাপ্পড়ও মারেন।

তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষে কালচারাল অফিসার তার কাছ থেকে একাডেমির চাবি রেখে তাকে তাড়িয়ে দেন এবং বলেন- শিল্পকলা একাডেমি ভবনের চারপাশে দেখলেও তার হাত-পা ভেঙে দেবেন।

শিল্পকলা একাডেমি ভবনের সিসি ক্যামেরায় কালচারাল অফিসারের এ কর্মকাণ্ড ধারণ করা রয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

jagonews24

শিল্পী মনির বলেন, ‘কিশোর বয়স থেকেই সঙ্গীত জগতের সঙ্গে জড়িত। প্রায় ২০ বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত পরিবেশন করছি। বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় কয়েক ডজন পুরুস্কারও রয়েছে। বাংলার সারেগামা অনুষ্ঠানে সেরা ১০ জনের মধ্যে নির্বাচিত শিল্পী।
তিনি আরও বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন উদ্বোধন থেকে শুরু করে আট বছর ধরে এখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। জেলার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক বিস্তারে অবদান রাখার চেষ্টা করছি। বিনা কারণে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করায় জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আল মামুনের কঠোর বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে অভিযুক্ত সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আল মামুন মারধর ও গালির বিষয় অস্বীকার করে জানান, মনির মল্লিক নৈশ প্রহরী (আউটসোর্সিং) পদে কর্মরত। শিল্পকলার সামনের বাল্বসহ বেশ কিছু মালামাল কয়েকদিন ধরে খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। হলরুমের মধ্যে অনেক ময়লা-আবর্জনা রয়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করতে বললে আমার মুখে মুখে তর্ক করে বাইরে চলে যায়। এখন বিভিন্ন স্থানে নালিশ করতেছে। যা নিয়ে আমি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘মনির মল্লিক নামে একজনের অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

মো. আতিকুর রহমান/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]