নারীকে মারধর করে অর্থ লুট, এসআইসহ ৩ পুলিশ বরখাস্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১
টাকা লুটের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়াদের একজন এসআই নুর-ই খোদা ছিদ্দিকী

কক্সবাজার শহরে বাড়িতে ঢুকে নারীকে মারধর করে তিন লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পুলিশের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) বিকেলে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় দু’জনকেও আটকের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত তিনি পুলিশ সদস্য হলেন- উপপরিদর্শক (এসআই) নুর-ই খোদা ছিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লা। তারা তিনজনই কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, সোমবার স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার রিয়াজ আহমদ নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী রোজিনা খাতুনের ব্যাগ ভর্তি টাকা লুটের চেষ্টা করেন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের তিন সদস্য। ব্যাগ নিয়ে চারজন চলে যেতে পারলেও একজনকে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ঝাপটে ধরে ফেলেন। নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে আটকের পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক পুলিশ সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় অপর সহযোগীদের নাম জেনে তাদেরও থানায় ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার পাশাপাশি তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। বিধানমতে মঙ্গলবার সকালে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী রোজিনার স্বামী রিয়াজ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘জেনেছি আমার বাড়িতে আসা লোকজনের মাঝে তিনজন পুলিশ ও বাকি দুজন স্থানীয়। তাদের মারধরে আমার স্ত্রী আহত হয়। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

তবে, স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, ভুক্তভোগী রোজিনার পরিবার মাদক কারবারে জড়িত। রোজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ আছে। এসবের মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তাদের অপকর্ম ঢাকতে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী নামধারী সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তিসহ অপরাধীদের সঙ্গে রোজিনাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেসব জেনেই সোর্স নামধারী দালালদের পরামর্শে পুলিশের লোভী সদস্যরা রোজিনাদের বাড়ি গিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘অপরাধকে অপরাধ এবং অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করছি আমরা। আইনের চোখে সবাই এক। এ ঘটনার ভিকটিম মাদক ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তারাও আইনের আওতায় আসবেন। তবে, গতকালের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা দোষী হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাহিনীর অগোচরে ব্যক্তির অপকর্মের দায় বাহিনী কখনো বহন করবে না। এটা ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে গণ্য। তাই আইনমতে যা করণীয় সেটাই আমরা করেছি। বাকিটা আদালতের উপর নির্ভরশীল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, কেউ ছাড় পাবেন না।’

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]