৮ বছর পর সন্তানলাভ : ‘ক্লিনিকের অবহেলায়’ মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ০৩ মার্চ ২০২১

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি ক্লিনিক ভাঙচুর করা হয়েছে। জন্মের দু’দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

পরে রাতে সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় আলমডাঙ্গায় মা ক্লিনিক ভাঙচুর করে নবজাতকের পরিবার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

স্বজনরা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের ওল্টু রহমানের স্ত্রী মনিরা খাতুন দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্তানসম্ভবা হন। গত রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মনিরা খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে আলমডাঙ্গার মা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই ডা. লিফা নারছিস চৈতী প্রসূতির সিজার করেন।

সেসময় পুত্রসন্তান প্রসব করেন মনিরা খাতুন। পরদিন সোমবার হঠাৎ কান্না শুরু করে ওই নবজাতক। তাকে নেয়া হয় মেহেরপুর সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমানের আলমডাঙ্গার চেম্বারে। ডা. হাবিবুর রহমান নবজাতকের চিকিৎসা প্রদান করেন।

পরে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজন তাকে কুষ্টিয়ায় ভালো কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যায় মারা যায় শিশুটি।

শিশুটির বাবা ওল্টু রহমান বলেন, ভুল চিকিৎসা প্রদান ও অন্য চিকিৎসকের কাছে নিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়ায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারলে সে বেঁচে থাকত।

ক্লিনিক মালিক আনোয়ার হোসেন জালাল জানান, আমার ক্লিনিকে প্রসূতির অপারেশন বা অপারেশনের পর সেবায় কোনো ত্রুটি হয়নি। ভূমিষ্ঠের পর শিশুটি সুস্থ ছিলো। তারপরও ক্লিনিকে হামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে ওই ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

সালাউদ্দীন কাজল/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]