রেস্তোরাঁয় বেশি টাকা দিলেই মেলে অতিথি পাখির মাংস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হোটেলগুলোতে বেশি টাকা দিলেই মেলে পরিযায়ী পাখির মাংস। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা হোটেলে দুপুর কিংবা রাতের খাবার খেতে গেলে সেখানে বিশেষ খাবারের আইটেম হিসেবে দেখানো হয় অতিথির পাখির মাংস। শুধু তাই নয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার আগে ফোন করেও এইসব পাখির মাংস অগ্রিম অর্ডার করা যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে পর্যটকরা ঘুরে এসে যখন ভাত খাওয়ার জন্য হোটলে ঢোকেন তখন হোটেলে দায়িত্ব থাকা কয়েকজন এসে খাবারের আইটেম বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিশেষ আইটেম হিসেবে তারা পাখির মাংস বলেন এবং সেটার দাম প্রতি প্লেট ৩০০ টাকা করেন। যা গরু কিংবা মুরগির মাংসের চেয়ে দ্বিগুণ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছোট বড় সব হোটেলেই টাকা বেশি দিলে মেলে এসব অতিথি পাখির মাংস।

শীতকালে সাইবেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়। এসময় এসব অঞ্চলে পাখিদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি হয়। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিরা প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ সবচেয়ে বড় জলাভূমি বিশ্বের অন্যতম রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরেআশ্রয় নেয়। কিন্তু এখানে এসেও তাদের শেষ রক্ষা হয় না। কিছু অসাধু মানুষ প্রতি বছর অতিথি পাখি শিকার করে। অনেকে এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সব হোটেলে যদি মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচলনা করা হত তাহলে হয়ত পাখি শিকার কম হত। একটা চক্র আছে যারা পুলিশ এবং আনসারকে হাতে নিয়ে নিয়মিত পাখি শিকার করছে যার কারণে আগের মতো টাঙ্গুয়ার হাওরে এখন আর পাখি আসে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ নূর জানান, হাজার হাজার পাখি ছিল হাওরে। কিন্তু এখন আর আগের মতো পাখি নেই। কারণ পাখি শিকারীরা প্রতিদিন পাখি শিকার করে ব্যাগ ভরে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, টাকা বেশি দিলে হোটেলে অতিথি পাখির মাংস পাওয়া যায়। আমরা স্থানীয়রা অনেকদিন যাবৎ পাখি শিকার বন্ধের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন করছি কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা কানে নিচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই পাখি শিকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং দণ্ড নিশ্চিত করা হোক।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, হোটেল রেস্তোরাঁয় পাখির মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আগেও হয়েছে, এখনও অব্যাহত আছে, থাকবে।

লিপসন আহমেদ/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]