ভোটের পর মুখোমুখি সরকার দলীয় দুই কাউন্সিলর
বগুড়ার শেরপুরে পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন সরকার দলীয় দুই কাউন্সিলর ও তাদের অনুসারীরা। যা যেকোনো সময় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্যানেল মেয়র নির্বাচনে অনিয়ম ও ফলাফলে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এনে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও রয়েছেন।
বিধি ভেঙে প্যানেল মেয়র নির্বাচন হওয়ায় তা প্রত্যাখান করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান তিনি। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পৌর প্রশাসন দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল দশটার দিকে শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি এসব অভিযোগ করে আরও বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টানো হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামে দেখানো হচ্ছে। তাই নির্বাচনের পরদিনই ভোটের ব্যালটসহ ফলাফলের ফাইলটি গায়েব করা হয়।
এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হওয়া ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলম খোকন বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। এজন্যই তার বিরুদ্ধে নানামুখি ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়েও পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ। কিন্তু এসব নোংরামি করে কোনো লাভ নেই। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। যেকোনো মূল্যে প্রতিপক্ষের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি দেড়শ বছরের প্রাচীন শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলররা শপথ নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন। সেইসঙ্গে গত ০৯ মার্চ প্যানেল মেয়র নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এতে সরকার দলীয় দুইজন কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র পদে প্রার্থী হন। তারা হলেন- কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি ও নাজমুল আলম খোকন।
সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা সম্ভব না হওয়ায় গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে মেয়র-কাউন্সিলরসহ ভোটার ছিলেন মোট ১৩ জন। মেয়র ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আর বাকি ১২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে ১টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়। আর ১১টি প্রদত্ত ভোটের ফলাফলে নাজমুল আলম খোকনকে প্যানেল মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন পৌরসভার মেয়র জানে আলম খোকা। তবে এই নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখান করেন সরকারদলীয় আরেক প্রার্থী কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিধি মেনে নির্বাচন করা হয়নি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় ছিল সকাল দশটা। কিন্তু নির্ধারিত এই সময়ে কোনো ভোট নেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তড়িঘড়ি করে ভোট নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
তার দাবি, তিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। অথচ জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানো হয়। উপস্থিত সবার সামনে ব্যালট উন্মুক্ত করে ভোট গণনার দাবি জানানো হলেও সেটি করা হয়নি। আমার প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট দেখতে চাইলেও দেখানো হয়নি। এতে করে সন্দেহ, সংশয় আরও বেড়ে গেছে। তাই গায়েবি ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তাঁর দাবির সঙ্গে কাউন্সিলর শুভ ইমরান, কাউন্সিলর চন্দন কুমার দাস রিংকু ও ফারুক ফয়সাল সোহাগ একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর পৌরসভার মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়েছে। এতে কাউন্সিলর নাজমুল আলম খোকন বিজয়ী হয়েছেন। সব কাউন্সিলরের সামনেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই ফলাফল মেনে নিয়ে তারা দু’জনই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের দুইদিন পর এসে ভোটের ব্যালট দেখতে চাওয়াসহ ওই কাউন্সিলর যেসব কর্মকাণ্ড করছেন তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফএ/এএসএম