বরখাস্তের পরও স্বাক্ষর জাল করে এমপিওভুক্তির টাকা উত্তোলন
স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার পরও সিল-স্বাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর রানীনগরে চকপারইল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক গুলজার রহমানের বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির সিল স্বাক্ষর জাল করে গত ৫২ মাসে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা রানীনগর সোনালী ব্যাংক বাজার শাখা থেকে উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সোমবার (১৫ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদরাসার বর্তমান প্রধান শিক্ষক আল-আমিন হোসেন ও সভাপতি রেঞ্জুদুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গুলজার রহমান বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার করজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর উপজেলার পারইল ইউনিয়নের চকপারইল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যোগদান করে পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু তিনি এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
ইচ্ছেমতো মাদরাসায় আসা-যাওয়া, অনুপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ওই মাদরাসার পরিচালনা কমিটি সরকারি বিধি অনুসরণ পূর্বক তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়।
চাকরি চলে গেলেও এমপিওভুক্তির অংশের টাকা নিতে চার বছর চারমাস সময় ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চকপারইল মাদরাসার বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির সিল স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্তকৃত শিক্ষক গুলজার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিয়েছি। কিন্তু কমিটির কয়েকজন সদস্য অমানবিক আচরণ করে ষড়যন্ত্রমূলক আমাকে বরখাস্ত করে। আমি অনুদানভুক্ত এমপিওর অংশের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার সময় কারও সিল স্বাক্ষর জাল করিনি বরং কমিটিই আমাকে বেতন দিয়েছে।’
চকপারইল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আল-আমিন বলেন, ‘গুলজার রহমান স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়োগ দেয়। গত সপ্তাহে জানতে পারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির এবং আমার সিল-স্বাক্ষর জাল করে বরখাস্তকৃত শিক্ষক গুলজার রহমান টাকা উত্তোলন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ করেছি।’
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত এর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আব্বাস আলী/এসজে/এমএস