ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বেধড়ক মারধর, ফেলে দেয়া হলো ব্রিজের নিচে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে প্রতিবন্ধী এক কলেজছাত্রীকে (১৮) মারপিট করে সড়কের ব্রিজের নিচে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকালে তিয়শ্রী-সিংহের বাজার সড়কের মাখনা গ্রামের সামনে ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় এলাকাবাসী ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নে মাখনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বাড়ি উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নে।

আহত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জানান, ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট মাঘনা গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে অপু তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ এপ্রিল জামিন পেয়ে অপু বাড়িতে আসেন। তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যান। বুধবার বিয়ের কথা বলে অপু নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অপু ও তার বাবা আব্দুল করিমসহ আরও কয়েকজন মামলাটি তুলে নিতে ওই ছাত্রীকে মারধর করেন।

মারধরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাদের বাড়ির সামনে ব্রিজের নিচে ফেলে যান। মারধরে চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন ওই ছাত্রী।

জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন অপু। তিনি মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুধবার গভীর রাতে একটি সিএনজি নিয়ে ওই মেয়েটি আমার বাড়িতে এসেছিল। পরে বাবা চোর মনে করে কয়েকটি থাপ্পড় দিয়ে বিদায় করে দিয়েছেন।’

নায়েকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রোমান বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

মদন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজী বুশরা আমীনা জানান, মেয়েটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, ধর্ষণ মামলাটি বিচারাধীন। মারপিটের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এইচ এম কামাল/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]