দোকান দখলে নিতে মালিকপক্ষের হামলা-ভাঙচুর, আটক ৮

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:১২ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় ভাড়ায় দেয়া দোকান দখলে নিতে রাতের আঁধারে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে মালিক পক্ষ। এসময় দোকানে থাকা মালামালসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

বুধবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, খরুলিয়া বাজারের ঘাট পাড়া সড়কের একটি দোকানসহ কিছু জমি নিয়ে ওই এলাকার মৌলভী হাফেজ আহাম্মদের ছেলে এমদাদ উল্লাহর ছেলেদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জের ধরে কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের ১৫-২০ জন সশস্ত্র যুবক আকতার আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিনের দখলীয় দোকানে হামলা চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে খরুলিয়া বাজারের পাহারাদার নুরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর নামের স্থানীয় এক দোকানদারকে মারধর করা হয়।

jagonews24

ব্যবসায়ী জসিমের ভাষ্যমতে, মৌলভী হাফেজ আহাম্মদের ছেলে মুহিব উল্লাহ ও মেয়ে রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে প্রায় দুই গন্ডা জমি ক্রয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই জমি কোনোভাবেই দখলে নিতে না পেরে এমদাদ উল্লাহর ছেলেদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া দোকানটি তিনি মালিকানা হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। বুধবার ৩টার দিকে এমদাদ উল্লাহর ছেলে এরশাদ উল্লাহ, আশেক উল্লাহ, আরশাদ উল্লাহ, এজাজ উল্লাহ ও আসাদ উল্লাহসহ কক্সবাজার শহরকেন্দ্রিক একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে তার (জসিমের) দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে তিনি ৯৯৯-এ কল করেন।

ফোন পেয়ে পুলিশ আসায় হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কেউ পালিয়ে যান কেউ এমদাদের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। এময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ব্যারিকেড দিয়ে ঘাটপাড়া সড়কটি বন্ধ করে দেন এবং দোকানের আশপাশ ঘিরে রাখেন। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এসে এমদাদের বাড়িতে আটকা পাড়া চারজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক আরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার দোকানটি তাকে ভাড়া দিয়েছি সাত বছর ধরে। গত বছর থেকে দোকানের ভাড়া পরিশোধ না করে মালিকানা দাবি করে আসছেন জসিম। তিনি আমার চাচা-ফুফুর কাছ হতে কিছু জমি কিনেছেন, একথা সত্য। তাই বলে আমাদের অংশ তারা দখল করে রাখবে? সে যদি জমির মালিক হয়ে থাকে, এমদাদের দখলীয় অংশ যদি পেয়ে থাকে, তাহলে আদালত থেকে রায় নিয়ে আসুক। আমি অনায়াসে ছেড়ে দেব?’

jagonews24

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গীয়াস বলেন, জমির মালিকানা ও দখল বেদখল নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে আদালতের আশ্রয় নেয়া যায়। রাতের আঁধারে ভাঙচুর চালানো আইনসিদ্ধ নয়। খরুলিয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন আটক আছেন। বাকি জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]