ইয়াবা সেবনকারী সেই চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সেই ইয়াবা সেবনকারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধাকে খুঁজছে পুলিশ। এই ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগেরও সভাপতি ছিলেন। নানান অনিয়মের অভিযোগে ৭ এপ্রিল তাকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার। তবে এখনো তিনি চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় ও ইউপি মেম্বারদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) নবীনগর থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আটক করতে এরইমধ্যে আমরা একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। তিনি এলাকা ছাড়া হয়ে পালিয়েছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার কয়েকমাস আগে মদ পান করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই ঘটনার কয়েক দিন পরই ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের আটজন সদস্য ও তিনজন নারী সদস্য চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত এবং মাদক বেচাকেনার অভিযোগ তুলেন।

এছাড়া ইউপি সদস্যরা টিআর কাবিখার টাকা আত্মসাৎ ও জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদানে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ও তিন নারী মেম্বার চেয়ারম্যানকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে লিলি বেগম নামের এক নারী মেম্বারকে জুতাপেটা করেন।

১১জন ইউপি সদস্য চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার অপসারণের দাবি জানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। তারা এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করে রেজ্যুলিউশনে পাস করেন। জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার নানান বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ইউপি সদস্যরা।

ইউপি সদস্যদের এসব অভিযোগের জের না কাটার আগেই সম্প্রতি চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার আরও একটি ইয়াবা সেবন করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আবারও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিও ভাইরালের পর উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। গত ৭ এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। তবে এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সপদে রয়েছেন তিনি। এ নিয়ে উপজেলায় চলছে লুকোচুরি।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমার কোনো মতামত দেয়া ঠিক হবে না। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গ কথা বললে বিস্তারিত জানাতে পারবে।’

কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভাষ্যমতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সমবায় অফিসার অলি আহাদ চৌধুরীর সঙ্গ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোন তদন্ত কমিটির দায়িত্ব আমার না। উনার (ইউপি চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব দেয়া হয়, ওই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছি। সেটা আইনগতভাবে আমরা দেখছি। মাদক সেবন বা অন্যকিছুর বিষয়ে আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি।’

এদিকে, কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে আটক করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]