গলদে ভরা আড়াই কোটি টাকার সড়ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী বেড়িবাঁধের বটতলা থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে গলদে ভরপুর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দের এ সড়কটি তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে নিম্নমানের পাথর, বিটুমিন ব্যবহার এবং বেঁড়িবাধের কোলঘেঁষা দুপাশ থেকে মাটি কেটে সড়কের পাশে দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে সম্প্রতি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারকে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকজন শ্রমিককে সড়কে কাজ করতে দেখা গেছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, রায়পুরের চরবংশী বেড়িবাঁধের বটতলা থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত সড়কটির সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংস্কারে আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সড়কটি ১২ ফুট চওড়া হবে। দুই ইঞ্চি কার্পেটিংয়ের জন্য ২০, ১৬, ১২ ও ৭ মিলি পাথর এবং কণা ব্যবহার করার কথা। ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাইড্রো ট্রেড’ টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজটি পেয়েছে। ২৬ শতাংশ টাকা কমে প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।

jagonews24

২৮ এপ্রিলের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজটি সমন্বয় করছেন সদর উজেলার চররুহিতার চরমন্ডল গ্রামের ঠিকাদার মানিক পাটওয়ারী।

স্থানীয় দুইজন জনপ্রতিনিধি ও বেঁড়িবাধের পাশে বসবাসকারী লোকজন জানিয়েছেন, ঠিকাদারের লোকজন খানা-খন্দে ভরা পুরনো সড়কটি প্রথমে ভেকু মেশিন দিয়ে উল্টিয়েছে। এরপর তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাথর, বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং করছে। এতে রোলারের চাপে পাথর গুড়ো হয়ে সাদা পাউডারের মতো হয়ে যায়।

নতুন খোয়া সড়কের কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। বেড়িবাঁধের দু’পাশ থেকে গর্ত করে মাটি কেটে সড়কের পাশে ভরাট করা হচ্ছে। এতে ঝড়-বৃষ্টি হলে রাস্তা ভেঙে যাবে।

jagonews24

চরবংশী গ্রামের ফারুক হোসেন ও মোরশেদা বেগম জানান, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে হাজারো মানুষ আর শত শত যানবাহন চলে। ঠিকাদার ইচ্ছেমতো কাজটি করছেন। নিম্নমানের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় দেখা যাবে। কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকায় সরকারি টাকা জলে যাবে।

ঠিকাদারের স্থানীয় সমন্বয়ক মানিক পাটওয়ারী বলেন, কাজে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় কিছু লোক সুবিধা নিতে না পেরে অনিয়ম হচ্ছে বলে অপপ্রচার করছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। কাজটি এখন শেষের দিকে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম পাটওয়ারী বলেন, পাথরের বিষয়ে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। প্রথমে ঠিকাদারের লোকজনকে আমি সতর্ক করে দিয়েছি। আমি ৬ বার রাস্তাটি পরিদর্শনে গিয়েছি। নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]