ধলেশ্বরীর বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খরোস্রোতা ধলেশ্বরী নদীর তীরে এখন সবুজের সমারোহ। বর্ষায় যেখানে শুধু পানি আর পানি সেখানে এখন চাষ হচ্ছে নানা জাতের ফসল। ধলেশ্বরী নদীর তীরে শুকনো মৌসুমে আবাদ করা হয়েছে ইরি-২৮ ও ২৯, বোরো ধান, মাষকলাই, বাদামসহ নানা ধরনের সবজি। সময়ের বিবর্তনে খরস্রোতা ধলেশ্বরী নদীর বুকে পলি জমে এ অবস্থা হয়েছে।

গত এক দশক যাবৎ নদীর বেশিরভাগ অংশ জুড়ে বর্ষা মৌসুম বাদে অন্য সময় চলে এমন চাষাবাদ। ধলেশ্বরী নদীর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া, কাকুয়া, কাতুলী, বাঘিল, পোড়াবাড়ি ও ছিলিমপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫ কিলোমিটার অংশে ধানসহ ফলানো হচ্ছে নানা ফসল।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র জানান, টাঙ্গাইলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যমুনা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদীর সৃষ্টি হয়েছে। নদীটির দুটি শাখা রয়েছে। একটি শাখা পাশের জেলা মাকিগঞ্জের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মানিকগঞ্জের দক্ষিণে গিয়ে শেষ হয়েছে। অপরটি গাজীপুরের কালীগঞ্জের সাথে মিলিত হয়েছে।

jagonews24

বুড়িগঙ্গা এক সময় ধলেশ্বরীর শাখা ছিল। ধলেশ্বরী নদী নানাভাবে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ধলেশ্বরীতেই পতিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধলেশ্বরী নদীর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের গোলচত্বর, ছিলিমপুর ইউনিয়নের ঝিনাইপাড়া, চরপাকুল্লা, কাকুয়া ইউনিয়নের তোরাপগঞ্জসহ বিভিন্ন অংশে নানা ধরনের ফসল চাষ করা হয়েছে। নদীটির গতিপথ পরিবর্তন করে বর্তমানে কৃষকের চাষযোগ্য ভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদীর উপরে সেতু না থাকলে বোঝার উপায় ছিল না এটা নদী নাকি ফসলের মাঠ।

কাকুয়া ইউনিয়নের কৃষক বারেক সিকদার বলেন, এ নদী দিয়ে বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্টিমার চলাচল করত। এখন আর আগের মতো দীর্ঘ সময় নদীতে পানি থাকে না। বন্যার সময় ৩-৪ মাস নদীতে পানি থাকে। বছরের বাকি সময় থাকে শুকনো। তবে প্রতি বছর বন্যার সময় নতুন পলি মাটি জমে ফসল ভালো হয়।

jagonews24

চর পাকুল্লা গ্রামের রাজা মিয়া আর মাহমুদ নগর গ্রামের শহীদ মিয়া বলেন, এক সময় নদী অনেক গভীর ছিল। ফাল্গুন-চৈত্র মাসেও নদীতে নৌকা চলাচল করত। এখন নদী মরে গেছে। কারণ নদীর সব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে গেছে। যে কারণে স্থানীয় কৃষকরা নদীকে বানিয়েছেন ফসলের মাঠ।

ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আমিন মিয়া বলেন, ধলেশ্বরী নদী আগের মতো নেই। নদীতে পানি নেই, তাই নদীর বুকজুড়ে ধানসহ যেকোনো ফসল চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর, দেলদা, রাঙাচিড়া ও চরপৌলী গ্রামের পাশ দিয়ে ধলেশ্বরী নদী বয়ে গেছে। এ ইউনিয়নের পাঁচ কিলোমিটার নদীতে ধান-পাটসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে।

jagonews24

বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, এ ইউনিয়নের লোহাজানি-শিবপুর গ্রামের পাশ দিয়ে ধলেশ্বরী নদীর সীমানা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। সব জায়গাতেই ফসল ও নানা সবজির চাষ করা হচ্ছে।

পোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজমত আলী জানান, তার ইউনিয়নের খারজানা, বাউশা, নন্দিপাড়া, ঝিনাই গ্রামের পাশ দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার নদীর সীমানা। এখন নদীটি মরে গেছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ধলেরশ্বরী, লৌহজং, ঝিনাই নদীসহ কয়েকটি নদীকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে ধলেশ্বরীকে এ ক্যাটাগরিতে আনা হয়েছে। অচিরেই নদী খনন ও তীররক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]