ফেনীতে লাইভে এসে স্ত্রী হত্যা : এক বছরেও শেষ হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল ফেনী শহরের উত্তর বারাহীপুর ভূঞা বাড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী টুটুল। পরে তিনি নিজেই ৯৯৯-এ খবর দিয়ে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টুটুলকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে।

দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ এক বছরেও শেষ হয়নি। ঘটনার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন টুটুল। তবে এখনও মনে পড়লে মা-বাবার খোঁজে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে ওই দম্পতির ৩০ মাস বয়সী শিশু সন্তান স্নেহা।

এ ঘটনায় নিহত তাহমিনা আক্তারের বাবা সাহাবুদ্দিন গত বছরের ১৬ এপ্রিল ওবায়দুল হক টুটুলকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুদ্দিন ওইদিন টুটুলকে আদালতে হাজির করেন। হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুবজোতি পালের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন টুটুল। পরে এসআই সাইফুদ্দিন বদলি হওয়ায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই এমরান হোসেন।

ফেনী জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আলতাফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওবায়দুল হক টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। আদালত একই বছরের ডিসেম্বর মাসে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নিহত গৃহবধূর বাবা ও মামলার বাদী সাহাব উদ্দিনের প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার ও পুলিশসহ ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। দিনক্ষণ ঠিক থাকার পরও করোনা পরিস্থিতির কারণে নিহত তাহমিনা আক্তারের ছোট বোন ও আসামি টুটুলের দুই চাচাতো ভাইয়ের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

মামলার বাদী সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘তার নাতনি স্নেহা দিনভর খেলাধুলায় সময় কাটায়। তবে মাঝেমধ্যে মা-বাবার কথা মনে পড়লে তাদেরকে ডেকে ডেকে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তখন তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমরা খুঁজে পাই না।’

ফেনী জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, বারাহীপুরে লাইভে এসে গৃহবধূ হত্যা মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাক্ষ্য শেষ হলে যুক্তিতর্ক শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হবে।

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]