পরিচয় গোপন করে সেই কমলার জন্য খাবার পাঠালেন সরকারি কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

স্বামী ছেড়ে গেছে ২০-২১ বছর আগে। একমাত্র ছেলেও বিয়ে করে মাকে ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে বেশ ক’বছর আগে। সেই থেকে স্বামী-সন্তানহীন কমলা খাতুনের মাথা গোঁজার ঠিকানা হয়েছে মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী তবলছড়ির গৌরাঙপাড়ার বাবার বাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবার বাড়িতেই একটি জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস কমলা খাতুনের। ঘরের চারপাশে মাটির দেয়াল, ওপরে ছনের ছাউনি। ঘরের চালার অনেক জায়গায় ছন নেই। দিনে সূর্যের আলো আর রাতের চাঁদের আলো তার ঘরের চালাকে ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে। বর্ষাকালে তো কষ্টের শেষ থাকে না কমলা খাতুনের।

ভাঙা ঘরে অতিকষ্টে দিন পার করেন তিনি। নুন আনতে পানতা পুরায় অবস্থা। পবিত্র রমজান মাসে প্রতিবেশীরা যখন মুখরোচক খাবারে সাহরি ও ইফতার করেন তখন অন্যের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতার-সাহরি করেন কমলা খাতুন।

রোববার (১৮ এপ্রিল) বিকেলের দিকে ‘এদের দেখার মত কেউ নেই’ শিরোনামে কিছু ছবি নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তালেব। মুহূর্তের মধ্যেই এসব ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। আর তখনই সবার নজরে আসে স্বামী-সন্তানহীন কমলা খাতুনের অসহায়ত্ব।

nat

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমলা খাতুনের এমন দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে তার বাড়িতে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ-রসুন, ছোলা, মুড়ি ও খেজুরসহ রমজান মাসের খাবার পাঠালেন মাটিরাঙার এক পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার পক্ষে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিকেলের দিকে রোজা এবং ঈদের খাদ্যসামগ্রী কমলা খাতুনের বাড়িতে পৌঁছে দেন জাগোনিউজ২৪.কম-এর খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান ভুইয়া। এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তালেব, মেহেদী হাসান ও স্থানীয় শরীফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ওই কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তালেব জাগো নিউজকে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কতোটা মানবিক হতে পারে তিনি সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। নিজের পরিচয় গোপন করে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তার জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন কমলা খাতুন। তিনি বলেন, রমজান মাসে আমাকে আর কষ্ট করতে হবে না। এখন বাড়িতেই সাহরি-ইফতার করতে পারব।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]