বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর 
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পতাকা উত্তোলন, পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন খতমের মধ্য দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টায় উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর (রউফনগর) গ্রামের পারিবারিক উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
পতাকা উত্তোলন করেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের বড়বোন জোহরা বেগম ও মুন্সী সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দুপুর ১২টায় মধুখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার, মধুখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুরাদুজ্জামান (মুরাদ), কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান বিশ্বাসসহ (বাবু) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আব্দুর রউফের প্রকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল শেষে মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু)। এ ছাড়া বাদ মাগরিব বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য, মুন্সী মেহেদী হাসান, মা মকিদুননেছার একমাত্র ছেলে মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে মাসের ১ তারিখে বর্তমান ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ বছর বয়সে তার পিতৃবিয়োগ ঘটে। এরপর আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি তৎকালীন ইপিআর-এ ১৯৬৩ সালের ৮ মে সৈনিক পদে যোগদান করেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি তার উইংয়ে কর্মরত অবস্থায় অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দন এবং তিনি মেশিন গানার হিসেবে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের অধীনে রাঙ্গামাটির মহালছড়ি নৌপথ অঞ্চলে বুড়িঘাট নামক স্থানে চিংড়িখালের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন।

jagonews24

৭১-এর ২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে মুন্সী আব্দুর রউফের মেশিন গানের গুলিতে পাকবাহিনীর দুটি লঞ্চ, একটি স্পিডবোট ডুবে পাকবাহিনীর দুই প্লাটুন সৈন্যের সলিল সমাধি ঘটে। এ সময় হঠাৎ প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত মর্টারসেলের আঘাতে তিনি শহীদ হন। 

ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শহীদ হবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে বুড়িঘাট নিবাসী জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমা ও দয়াল কৃঞ্চ চাকমার সহায়তায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের কবরের স্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। ১৯৯৭ সালে সেখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়।

বিগত ২০০৮ সালে ২৮ মে তার নিজ গ্রাম সালামাতপুরের নাম রউফ নগর রাখা হয়। ওই বছরেই তার নামে নিজ গ্রাম রউফ নগরে স্থানীয় সরকার সমবায় মন্ত্রণালয় ফরিদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন।

এছাড়া তার নামে এলাকায় কামারখালী বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ যা প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারি করেছেন।

গন্ধখালী বীরশ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গেট, ঢাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]