জোসনা কি পারবেন আগের মতো হাঁটতে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়া পা নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ছয়দিন আগে ভর্তি হন জোছনা বেগম নামের এক গৃহবধূ। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসক।

কিন্তু কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন কিছু ভেবে না পেয়ে প্লাস্টার করা পা নিয়েই হাসপাতাল ভবনে ঢোকার সিঁড়ির ওপর পড়েছিলেন অসহায় জোসনা বেগম। এক পাশে দাঁড়িয়ে তার চার বছরের সন্তান। অন্যপাশে মুখ গম্ভীর করে দাঁড়িয়ে আছেন স্বামী রিপন। স্ত্রীর চিকিৎসা তো দূরের কথা ওষুধ কেনারও টাকা নেই তার কাছে। অভাব যেন তার সব কিছুতেই কষ্টের বাগড়া বসিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মী রুবেল হোসেন এমন দৃশ্য দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে ওই গৃহবধূকে আবারও ভর্তি করে দেন।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জোছনা সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের জামিরতলী গ্রামের মেয়ে। স্বামী মো. রিপন ও ছেলে মো. জুয়েলকে নিয়ে একই উপজেলার বটতলী এলাকায় সড়কের পাশে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস। রিপন বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে প্লাস্টিক বা ভাঙারি জিনিসপত্র খুঁজে এনে বিক্রি করে সংসার চালান। তাদের ভিটেমাটি নেই। তার আত্মীয়-স্বজনরাও কোনো খোঁজ রাখেন না।

রিপন জানান, ছয়দিন আগে সদর উপজেলার মান্দারী বাজারে রাস্তা পারাপারের সময় একটি মোটরসাইকেলের সামনে পড়েন জোছনা। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হন। জোছনাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেঙে যাওয়া পা প্লাস্টার করিয়ে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

jagonews24

রিপন বলেন, ‘স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো আমার সামর্থ্য নেই। টাকার অভাবে চোখের সামনেই চিকিৎসা ছাড়া আমার স্ত্রী মারা যাবে। কেউ এগিয়ে আসলে তার চিকিৎসা করাতে পারতাম।’

দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ জোছনা আমার মোটরসাইকেলের সামনে পড়ে। এতে আমিও আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। জোছনার চিকিৎসার জন্য কিছু খরচ দিয়েছি। তাকে আরও সহযোগিতা করব।’

jagonews24

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জোছনার এখন উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে আমরা ছাড় দিয়েছি। সর্বোচ্চ দুদিন আমরা তাকে রাখতে পারব। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।’

কাজল কায়েস/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]