সেলামি দিয়েও আক্কেল হয়নি ভাটা মালিকের
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া এলাকার কেবিসি ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর অপরাধে এর আগে ভাটার মালিক আবুল কালাম সিকদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এক লাখ টাকা জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি কাঠ পোড়ানো। এছাড়া ভাটায় চলাচলের জন্য আবাদি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের বসতি এলাকার কৃষিজমির মাঠে মৃত জয়নাল সিকদারের ছেলে আব্দুস সাত্তার (এইচবিসি) ও আবুল কালাম সিকদার (কেবিসি) দুটি ইটভাটা স্থাপন করেন। ভাটা দুটিতে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট তৈরি করা হয়। দুই ভাটায় চার শতাধিক শ্রমিক কাজ করে থাকেন।

ভাটা দুটির একটিতে কয়লা আরেকটিতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ভাটা দুটিতে চলাচলের জন্য আবাদি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, কেবিসি ইটভাটায় প্রতিবছর ৪০ থেকে ৫০ লাখ ইট উৎপাদন করা হয়। জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করায় ইট পোড়ানোর মৌসুমে প্রচুর বিষাক্ত ধোয়া বের হয়। এতে আশপাশের জমিতে ধানের আবাদ ও এলাকার ফলদ গাছপালার উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে আসছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেনের নেতৃত্বে গত বছরের ২৯ নভেম্বর ওই ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করার অপরাধে ভাটা মালিক আবুল কালাম সিকদারকে আদালতের বিচারক এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা দিয়েও ভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিন ভাটায় গিয়ে কাঠ পোড়ানোর সত্যতাও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহুরিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, তারা সারা বছর মাঠের ফসলের আবাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাদের গ্রামের এই মাঠে পাশাপাশি দুটি ইটভাটা স্থাপনের পর থেকে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। ফলদ গাছেও ফল কম ধরে।
ভাটার মালিক এ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। ভাটায় চলাচলের জন্য দুই ভাটা মালিক গত বছর আবাদি জমির ওপর দিয়ে রাস্তাও নির্মাণ করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
কেবিসি ইটভাটার মালিক আবুল কালাম সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
ভাটার অংশিদার মো. মঞ্জু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কয়লার দাম বেশি হওয়ায় তারা কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না।
এস এম এরশাদ/এফএ/জিকেএস