মামার কোল পেল মা-হারা শিশু রোদেলা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে খুন হওয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে তার ভাই খন্দকার মো. আরশাদুল আবিদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

শিশুটিকে বৈধ অভিভাবকের কাছে দিতে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড পাঁচ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে মামার কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। কুমুদিনী হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) শিশুটির নাম রেখেছেন খন্দকার রোদেলা।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান ও টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘শিশুটির মামার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিশুটিকে মামার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

গত সোমবার (২২ মার্চ) সকালে প্রসবব্যথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সকাল ১০টায় সিজার অপারেশনের মাধ্যমে মেয়ে শিশুর জন্ম দেন তিনি। শুক্রবার (২৬ মার্চ) হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটি না নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে স্বামী আসায় শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে রেদওয়ানার মামি খোদেজা ও মর্জিনা তিনতলায় নিয়ে যান। সাড়ে ৩টার দিকে বাচ্চাকে পুনরায় দুধ খাওয়ানের জন্য খোদেজা বেগম ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আটকানো দেখেন। ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত সেবিকাকে তিনি বিষয়টি জানান। পরে অতিরিক্ত চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান।

শিশুটিকে বৈধ অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিতে ১ এপ্রিল টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানকে আহ্বায়ক ও টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. শাহ আলমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়।

jagonews24

উপকমিটির কাছে মামা খন্দকার আরশাদুল আবিদ শিশুটিকে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে বাবার পরিবার থেকে শিশুটিকে নেয়ার জন্য আবেদন না করায় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিশু আইন ২০১৩ এর ৮৪ ধারার উপধারা (৩) এ উল্লেখিত বর্ধিত পরিবারের সহিত পূনঃএকীকরণের উদ্দেশ্যে ৮৬ নং ধারা অনুসরণপূর্বক শিশুটির নিরাপদ হেফাজত, যত্ন, পরিচর্যা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য হস্তান্তর এবং ১৮ বছর পর্যন্ত প্রবেশন অফিসার শিশুটিকে তদারকি করবেন মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেদওয়ানার ছোট ভাই খন্দকার আরশাদুল আবিদের কাছে শিশুটিকে তুলে দেয়া হয়। এ সময় আবিদের স্ত্রী সাবিহা ইসলাম, তার নানী সুলতানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

২২ মার্চ থেকে রেদওয়ানা ইসলাম বাবদ কুমুদিনী হাসপাতাল ৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং শিশু রোদেলার চিকিৎসা বাবদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা বিল করেন। এরমধ্যে মামা আবিদ ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

এদিকে, কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম খুন হওয়ার পর থেকে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাজাহান খান বলেন, ‘কালচারাল কর্মকর্তা রেদওয়ানাকে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজান হাসপাতালে খুন করে পালিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সে গ্রেফতার হবে।’

এস এম এরশাদ/এসজে/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।