মারা গেলেন আ'লীগের দুঃসময়ের সেই নারী নেত্রী
না ফেরার দেশে চলে গেলেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সঙ্গী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সুলতা সাহা।
রোববার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে সুলতা সাহার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জামাল হোসাইন।
গত ২১ এপ্রিল আওয়ামী লীগের দুর্দিনের এই কাণ্ডারি সুলতা সাহার অসুস্থতা নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে তার অসুস্থতার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা কিরণ চন্দ্র সাহার স্ত্রী সুলতা সাহা। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। নির্বাচনও করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনীতির মাঠে ছিলেন সুলতা সাহা। যখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল, সে সময় বিরোধী দলে থেকেও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন তিনি।
তিনি একাই নয়, আন্দোলনে নিয়ে আসতেন তার সঙ্গে অন্য নারীদের। কিন্তু ৯ হাজার টাকা মাসিক বেতনে স্বামী কিরন চন্দ্র সাহা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ফ্লাওয়ার মিলসে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়ার খরচ জুগিয়ে সংসার চলতো অভাব-অনটনে। এর মধ্যে তাদের একমাত্র ছেলে সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কষ্টের শেষ ছিল না।
এছাড়া সুলতা সাহা দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগছিলেন। গত আড়াই বছর যাবত সুলতা সাহার খোঁজ-খবরসহ যাবতীয় বিষয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র থেকে সহায়তা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু দরিদ্রতার কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেননি সুলতা সাহা।
এরপর গত ১৪ এপ্রিল বাড়ির আঙিনায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙ্গে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাবেক এই সদস্যের। তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময়ও তার ওষুধ কিনে এনে খাওয়ার মতো সাধ্য ছিল না। নারী নেত্রী নিশাত ব্যক্তিগতভাবে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করেন। দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন সুলতা সাহা। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তাকে রাজধানীতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে, কিন্তু তার অর্থনৈতিক সামর্থ্য ছিল না উন্নত চিকিৎসা করার।
এ নিয়ে জাগো নিউজে গত ২১ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ জাগো নিউজের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আবুল হাসনাত মো. রাফির মাধ্যমে সুলতা সাহার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি সুলতা সাহার উন্নত চিকিৎসার সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। উন্নত চিকিৎসা দিতে আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চলছিল। এছাড়াও সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা ছাত্রলীগ চিকিৎসার জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা করেন। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা নেয়ার আগেই রোববার রাত সাড়ে ১০টায় মারা যান সুলতা সাহা।
সুলতা সাহার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বামী বৃদ্ধ কিরণ চন্দ্র সাহা। আর একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানটি হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। তাদের পাশে কে দাঁড়াবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/জেডএইচ/