শরীয়তপুরে তরমুজের কেজি ৭০ টাকা
শরীয়তপুরে সিন্ডিকেট করে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। খুচরা বাজারে মান ভেদে কেজিতে ৫০-৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এতে ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
পিস বা লট হিসেবেই তরমুজের বেচা-বিক্রি চলে আসছে আদিকাল থেকেই। সরাসরি ক্ষেত থেকেও পাইকাররা পিস হিসেবে তরমুজ কিনে আনেন। আবার অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে পাইকারদের কাছে আসেন, সেক্ষেত্রেও পিস হিসেবেই তরমুজের দাম নির্ধারিত হয়। পাইকাররাও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পিস হিসেবেই বিক্রি করেন এসব তরমুজ। তবে এবারের দৃশ্য ভিন্ন। কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
পালং বাজার, আংগারিয়া বাজার, বুড়িরহাট বাজার, ভোজেশ্বর বাজার, ভেদরগঞ্জ বাজার, ডামুড্যা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। এই বিষয় নিয়ে ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের বচসাও হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
শরীয়তপুর শহরের পালং বাজারে তরমুজ কিনতে আসা ফারুক আহমদ জানান, ব্যবসায়ীরা যখন কিনবেন তখন পিস হিসেবে আর যখন বিক্রি করবেন তখন কেজি দরে এটা কীভাবে সম্ভব। এসব দেখার কি কেউ নেই? আমার তো অসহায়। বাজারে এসেছি, যেভাবে বলে সেভাবেই কিনতে হবে।’
মাহবুব আলম নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘খুচরা তরমুজ ব্যবসায়ীরা বাজার সিন্ডিকেট করছে। যে কারণে সব খুচরা ব্যবসায়ীরাই জোট বেঁধে পিস হিসেবে কিনে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি শুরু করছে।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে এক কেজি তরমুজের দাম চলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ভালো মানেরগুলো ৬৫ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫ কেজির একটি তরমুজের জন্য ক্রেতার গুণতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ এই তরমুজের দাম ১৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন পাইকার ও ক্রেতারা।
পালং বাজারের তরমুজ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তরমুজের দাম এখন অনেক বেশি। যে দামে আমরা তরমুজ কিনেছি পিস হিসেবে ওই দামে বিক্রি করতে পারি না। তাই কেজি দরে বিক্রি করি। কেজি দরে বিক্রি করলে ঝামেলা কম হয়।’
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদিপ ঘরাই বলেন, ‘‘কৃষিপণ্য যে ইউনিটে ক্রয় করা হয় সে ইউনিটেই বিক্রয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি কেউ পিস হিসেবে কিনে কেজি দরে বিক্রি করে তাহলে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মো. ছগির হোসেন/এসজে/এমকেএইচ