পাবনায় গৃহবধূ রিতা হত্যা : ২ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ০১ মে ২০২১

পাবনার ঈশ্বরদীতে মুক্তি খাতুন রিতা (২৭) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (১মে) ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতাররা হলেন- শরিফ সরকার (২০) ও হেলাল সরকার (২২)। তাদের বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর গ্রামে।

আটক দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) রাতে পাবনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী-২ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জাকির হোসেন। লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রিতার বাবা মোজাফফর হোসেন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর দুপুরেই হত্যাকারী চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। নিহতের শাশুড়ির দেয়া তথ্য এবং ভিকটিমের মোবাইলের কললিস্ট ধরে রাতেই মূল বড়ইগ্রাম থানার চরগোবিন্দপুর গ্রামের সাদেক সরকারের পুত্র সাব্বির সরকার (২৭), শরীফ ও হেলালকে পুলিশ আটক করে।

তিনি আরও জানান, থানায় জিজ্ঞাসাবাদে এবং প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়। এদের মধ্যে শরীফ ও হেলাল শুক্রবার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আরও তদন্তের স্বার্থে সাব্বিরকে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শনিবার (১ মে) তাকেও স্বীকোরক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে হাজির করা হবে। আরেক আসামি গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে আর কারো ইন্ধন বা প্ররোচনা আছে কি-না এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেয়ার জন্য টাকা লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহত গৃহবধূ রিতার স্বামী বায়োজিদ সারোয়ার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি টাকার বিনিময়ে মানুষকে চাকরি দিতেন। নিহত গৃহবধূ রিতার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী জোগাড় ও টাকা লেনদেন হতো বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রিতার স্বামী বায়োজিদের নানা বাড়ির এলাকার সাব্বিরকে ৪০-৪৫ হাজার টাকা বেতন চাকরি দেয়ার জন্য বেশ কিছু টাকা নেয়া হয়। এছাড়াও ওই এলাকার আরও কয়েকজনকে জোগাড় করে এনে চাকরির জন্য টাকা দেয়। কিন্তু সাব্বির উল্লিখিত বেতনের চাকরি না দিয়ে ক্লিনারের চাকরি দেন। যেসব পদের বেতন ১২-১৫ হাজার টাকা। এতে সাব্বির ক্ষুব্ধ হয়ে টাকা ফেরত চান বা বেশি বেতনের চাকরি দাবি করেন। এসব টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সাব্বির আরও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীদের নিয়ে এসে গৃহবধূ রিতাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় রিতার শাশুড়িকেও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আরও জানান, অনেকগুলো বিষয় নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। কী কারণে রিতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না, আরও সময় লাগবে।

তিনি বলেন, সিআইডির বিশেষ টিম এসে আলামত সংগ্রহ করে গেছে। দু’এক দিনের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী শহরের মশুরিয়া পাড়া নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে গৃহবধূ রিতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে পাশের ঘরে রিতার শাশুড়ি নিলিমা খাতুন বেনুকে কোরআন শরীফ পড়া অবস্থায় গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। সেসময় তিনি চিৎকার শুরু করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং থানায় খবর দেন। পরে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আমিন ইসলাম/এআরএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।