গাছে বেঁধে নির্যাতন, সেই মা-ছেলেকে চিকিৎসা দিচ্ছে না হাসপাতাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ০২ মে ২০২১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সেই মা-ছেলেকে হাসপাতালে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২ মে) বিকেল ৪টার সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে আহত মা বিবি খতিজা ও ছেলে আইয়ুব খানকে হাসপাতালের বারান্দায় পাওয়া যায়।

তারা বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তারা হাসপাতালে আসলেও রেজিস্ট্রারের নাম লিখে বাহির থেকে হাতের এক্স-রে করে আনতে বলেন। কিন্তু তাদেরকে ২২ ঘণ্টায়ও হাসপাতাল থেকে কোন চিকিৎসা দেয়া হয়নি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিলে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যায় হাতে ও গায়ে ব্যথা নিয়ে চরএলাহীর মা-ছেলে জরুরি বিভাগে আসেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে তাদের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়।

আহত বিবি খতিজার স্বামী জাবেদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমার স্ত্রী সন্তান দীর্ঘসময়েও চিকিৎসা না পেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার অনুসারী হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ভর্তি রাখার মতো আহত নন তারা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে বর্গাচাষকৃত জমিতে ধান খাওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী জাহাঙ্গীরের গরুকে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয় আইয়ুব খান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর, তার ছেলে মাসুদ ও সহযোগী সাইফুল আইয়ুব খানকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে মা বিবি খাদিজা গেলে মা-ছেলেকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, কোনো মানুষ এমনভাবে নির্যাতন করতে পারে না। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি ভুক্তভোগী পরিবারকে।

আরএইচ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।