পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস ছুটে গিয়েও বাঁচাতে পারল না যুবককে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০২:৫০ এএম, ০৪ মে ২০২১

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উৎসুক জনতার সামনেই পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে টমাস সরকার (৩৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সোমবার (৩ মে) বিকেলে বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

টমাস সরকার শহরের চকসুত্রাপুর নামাজগড় এলাকার মৃত হাফিজার রহমান সরকারের ছেলে। পরিবারের দাবি, বাবার মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, শার্ট-প্যান্ট পরা টমাস সরকার নির্মাণাধীন একটি সাত তলা ভবনের বাইরে কাজ করার জন্য বেঁধে রাখা বাঁশ বেয়ে পঞ্চম তলায় উঠে যান। সেখানে উঠে তিনি একটি বাঁশে অবস্থান নেন। এ সময় নির্মাণ শ্রমিকরা ওপরে ওঠার কারণ জানতে চাইলে তিনি নিচে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।

মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটির নিচে অবস্থান নেন। তারা আধা ঘণ্টা ধরে নানা কলাকৌশলের পাশাপাশি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মই দিয়ে তাকে নামানোর প্রস্তুতি নেন। এটা দেখে টমাস সরকার দুই হাত ছেড়ে দিয়ে পেছন থেকে উল্টো দিকে পড়ে যান।

সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক টমাসকে মৃত ঘোষণা করেন।

টমাস সরকারের বড় ভাই শামীম সরকার জানান, তারা পাঁচ ভাই দুই বোন। ছয় বছর আগে তার বাবার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে পরিবারের সবার ছোট ভাই টমাস সরকার মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

এর আগেও টমাস একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে করা হচ্ছিল। রাতে তার নাম ও ঠিকানার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, টমাস সরকার তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।’

জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]