কাভার্ডভ্যান থেকে সিএনজিতে গ্যাস সরবরাহ, অপসারণ করলেন এএসপি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০৪ মে ২০২১

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে কাভার্ডভ্যানে স্থাপন করা একটি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রাম্যমাণ সিএনজি পাম্প অপসারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ মে) কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি- দাউদকান্দি ও চান্দিনা সার্কেল) মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে এই পাম্প অপসারণ করা হয়।

এর আগে দাউদকান্দির পদুয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর, চান্দিনা পৌর এলাকার বাগানবাড়ি, মহিচাইল ইউনিয়ন ও দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকা থেকে পৃথক চারটি পাম্প অপসারণ করেন এএসপি জুয়েল রানা।

CO.jpg

দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল অফিস সূত্র জানায়, গত দুমাস আগে এই সার্কেলে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল রানা। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই একেক করে দাউদকান্দি সার্কেলের বিভিন্ন এলাকায় কাভার্ডভ্যানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি পাম্প অপসারণ শুরু করেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনের সিএনজি পাম্পে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি পাম্পের স্থাপনা ভেঙে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাউদকান্দির একটি বৈধ সিএনজি পাম্পের মালিক জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কয়েকটি সিএনজি পাম্পের সঙ্গে এই চক্রটির চুক্তি ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি পাম্পে মিটার ও রেগুলেটর মেশিনের বাইরের লাইন টেম্পারিং করে বিশেষ কৌশলে কাভার্ডভ্যানে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। যা মূল মিটার হিসেবে আসে না এবং তা থেকে সরকার সম্পূর্ণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হতো। আর ওই কাভার্ডভ্যানগুলোর গ্যাস অনেকটা কম দামে কিনে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করা হতো। এমন অপকৌশলে সিএনজি পাম্পের অসাধু মালিক ও সংশ্লিষ্টরা রাতারাতি কোটিপতি বনে যান।

CO.jpg

জানতে চাইলে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) জুয়েল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই চক্রটি একটি খালি জায়গার ওপরে ত্রিপল টানিয়ে মেশিন স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ করছিল। প্রতিটি পাম্পে দুটি করে কাভার্ডভ্যান ও একটি গ্যাস সরবরাহের মেশিন থাকতো। প্রতি কাভার্ডভ্যানে অন্তত ১০০ গ্যাস সিলিন্ডার থাকত। ওই কাভার্ডভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে সিরিজ সংযোগ দিয়ে কন্ট্রোল মেশিনের মাধ্যমে সরাসরি সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ ছাড়া প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সাড়ে ৫ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সিএনজি পাম্প বৈধভাবে স্থাপন করতে গেলে ১৮টি সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন লাগে। কিন্তু ওই ভ্রাম্যমাণ সিএনজি পাম্পগুলোর কোনো অনুমোদন ছিল না। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদও করার সাহস পায়নি। অথচ একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে এক সঙ্গে শতাধিক সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটত। দাউদকান্দি সার্কেল এলাকায় এই ধরনের অপতৎপরতা চলতে দেয়া হবে না।’

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]