বছর ধরে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ০৫ মে ২০২১

চাঁদপুরে আলোচিত গৃহকর্মী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমজাদ মাহমুদ নিলয়কে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মে) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ধর্ষণের শিকার ওই গৃহকর্মী কারো কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়ে শারীরিক নির্যাতনের দায়ে ধর্ষণে অভিযুক্তের মা শাহানাজ বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ওই সময় অভিযুক্ত আমজাদ মাহমুদ নিলয় ও তার বাবা আব্দুল মাজেদ (৫৪) পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, আব্দুল মাজেদ ও শাহানাজ দম্পতি চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এ কর্মরত। তারা ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরশফী গ্রামের বাসিন্দা। চাঁদপুর ওয়ারলেছ বাজারে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। ধর্ষিতা গৃহকর্মী একই গ্রামের মানসিক রোগী মাহবুব আলমের কন্যা। তার মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ায় দীর্ঘ চার বছর ধরে এই দম্পতি তাকে দিয়ে বাসার কাজ করিয়ে আসছিলেন। এই চার বছরে তারা ধর্ষিতাকে কোনো টাকা-পয়সা দেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়, লকডাউনের কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় বাড়িতে চলে আসেন। এ সময় বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে তিনি তাদের কাজের মেয়েকে এক বছর ধরে বাসার মধ্যে একা পেয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বাবা-মাকে অবহিত করলেও তারা বিষয়টি কর্ণপাত না করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল দুপুর ১২ টার দিকে ধর্ষকের বাবা-মা আব্দুল মাজেদ দম্পতি অফিসে গেলে এই সুযোগে তাদের ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় ভুক্তভোগীকে আবারও ধর্ষণ করেন। ভিকটিম সর্বশেষ ঘটনার বিষয়টি আব্দুল মাজেদ দম্পতিকে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে শাহনাজ বেগম ও তার ছেলে আমজাদ মাহমুদ নিলয় ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। ভিকটিম তাদের দীর্ঘ দিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বাসা হতে রাস্তায় বের হয়।

বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পেরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং তার কাছ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি অবহিত হয়। পরে ওই দিন শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এই সংক্রান্তে তাদের বিরুদ্ধে ভিকটিমের আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করে শাহনাজ বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভোলা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়াও মামলার অপর আসামি বাবা আবদুল মাজেদকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম আতিক/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]