সেই খাতুন নেছার পাশে ডিসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১০:০৩ এএম, ০৫ মে ২০২১

সেই খাতুন নেছার পাশে দাঁড়িয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। মঙ্গলবার (৪ মে) জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহি নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন খাতুন নেছার জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে।

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান, পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মাসুদ পারভেজ লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান মুঠোফোনে বলেন, জাগো নিউজে অসহায় খাতুন নেছার সংবাদটি দেখে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থাও করা হবে। খাতুন নেছার সব ধরনের সহযোগিতায় পাশে থাকবো।

এর আগে সোমবার (৩ মে) ‘ঘর নেই, সরকারি সাহায্যও পান না খাতুন নেছা’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ হয় জাগো নিউজে।

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডামুড্যা গ্রামে বাড়ি অসহায় খাতুন নেছার (৯০)। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ২৫ বছর আগে খাতুন নেছার স্বামী আলী আহমেদ মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর শোক সইতে না পেরে খাতুন নেছা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। নিখোঁজের ১৪ বছর পর তার সন্ধান মেলে। মেয়ে সাহার বানু মাকে উদ্ধার করে নিজের কাছে রাখেন। সাহার বানুর সংসারেও অভাব। মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছেন তিনি।

খাতুন নেছা এক বছর বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তিন বছর ধরে তাও বন্ধ। বার্ধক্যের কারণে হাতের আঙুলের রেখা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই ছাপ না দিতে পারায় পাচ্ছেন না জাতীয় পরিচয়পত্রও। আর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় মিলছে না ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সহযোগিতা।

খাতুনের মেয়ে সাহার বানুও দরিদ্র। এরপরও গর্ভধারিণী মা ও বৃদ্ধ স্বামী আবু ব্যাপারীকে ভিক্ষা করে খাওয়ান তিনি। তাছাড়া সাহারার ছেলেরাও মাঝে মধ্যে কিছু দেন। তাদের দিন কাটে অনাহারে অর্ধাহারে। বার্ধক্যের কারণে হাঁটতে পারেন না খাতুন নেছা। থাকছেন একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে। বৃষ্টি এলে ঘরে পানি ঢুকে হয়ে যায়।

মো. ছগির হোসেন/আরএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]