৫০ ফুট উঁচু গাছ থেকে টিয়া পাখি চুরি, উদ্ধারের ব্যবস্থা করলেন এসপি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ০৯ মে ২০২১

মরা নারিকেল গাছের গর্তে বাসা বেধেছিল এক জোড়া টিয়া। ওই বাসায় এক জোড়া ছানাও জন্ম নেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৬ মে) সন্ধ্যায় ছানা দুটি চুরি হয়ে যায়। এতে বজ্রপাতে নারিকেল গাছ মরে যাওয়ায় যতটা না কষ্ট পেয়েছিলেন, এবার তার চেয়ে যেন বেশি কষ্ট পেলেন বাড়িওয়ালা কাজী সরোয়ার আলম পিয়ার (৫৮)। তিনি বজ্রাহতের মতো ছটফট করতে থাকেন। কী করবেন ভেবে না পেয়ে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছেই মেসেজ ঠুকে দেন তার ছানা উদ্ধার করে দেয়ার জন্য।

আপাত দৃষ্টিতে ‘মামা বাড়ির আবদার’ মনে হলেও পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খাঁন তাকে নিরাশ করেননি। পুলিশি তৎপরতায় শনিবার (৮ মে) রাতে ছানা দুটি উদ্ধার করে তার বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। এ ঘটনা পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার নয়াবাড়ী গ্রামের।

নয়াবাড়ী গ্রামের কাজী সারওয়ার আলম পিয়ার জানান, তার বাড়ির বাইরের আঙিনায় বেশ কয়েকটি বড় নারিকেল গাছ আছে। এর একটি বছর পাঁচেক আগে বজ্রপাতে মরে যায়। তবে প্রিয় গাছটি কেটে জ্বালানি বানাতে তার কষ্ট লাগে। ওই গাছে বাসা বাধে এক জোড়া টিয়া পাখি। পাখিগুলোর জন্য তার মায়া জন্মে যায়। তবে ৫০ ফুট ওই গাছের মাথার কোটর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিয়ার ছানা দুটি কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়।

কাজী সারওয়ার আলম পিয়ার মেসেজ দিয়ে চুরির বিষয়টি জানালে এসপি তার পাখিপ্রেমে মুগ্ধ হন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবীরকে। পুলিশ খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারে নয়াবাড়ী গ্রামের একজন আছেন তিনি যে কোনো গাছে উঠতে পারেন। তার পক্ষেই ৫০ ফুটের নারকেল গাছে ওঠা সম্ভব। পুলিশ ওই ব্যক্তির (নামটি গোপন রাখা হলো) বাড়ি গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে সব স্বীকার করেন তিনি। বর্ণনা দেন ছানা ছুরি, তা বিক্রি ও কিছু কেনাকাটার বিষয়ে।

jagonews24

অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান, তিনি যে কোনো গাছে উঠতে সক্ষম। বৃহস্পতিবার ইফতারের পরপরই অন্ধকারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ওই নারিকেল গাছের মাথায় ওঠেন। এরপর মা পাখির কোল থেকে চুরি করে নিয়ে আসেন ছানা দুটি। বাচ্চা নিয়ে আসার সময় নয়াবাড়ী শীলপাড়া গ্রামের একজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছে ১৫শ টাকায় ছানা দুটি বেচে দেন। ওই রাতেই পাখি বিক্রির টাকা নিয়ে ছুটে যান মার্কেটে। কেনেন ৪০০ টাকা দামের শার্ট আর ২০০ টাকার স্যান্ডেল। বাকি ৫০০ টাকায় এটা-সেটা কিনে খরচ করেন। তার হাতে থেকে যায় আরও ৪০০ টাকা।

যিনি ছানা দুটি কিনেছিলেন তার তথ্য দেন ওই ব্যক্তি। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমিনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন শুক্রবার (৮ মে) ছানা দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে পাখির মালিক কাজী সরোয়ার আলম পিয়ারের হাতে তুলে দেয়া ছানা দুটি। পরে তিনি ওসিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে পাখির ছানা দুটি ছেড়ে দেন।

আমিনপুর থানার ওসি রওশন কবীর রোববার (৯ মে) সকালে জানান, পাখির ছানা চুরি করা ব্যক্তি এমন কাজ আর করবেন না বলে মুচলেকা দেয়ায় তার এক আত্মীয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

কাজী সারওয়ার আলম পিয়ার জানান, তিনি শুনেছেন পাবনার বর্তমান পুলিশ সুপার একজন মানবিক পুলিশ। বিপদে-আপদে তিনি মানুষের সাহায্য করেন। ন্যায়বিচার করেন। সে বিশ্বাসে তিনি এসপি মহিবুল ইসলাম খাঁনের শরণাপন্ন হন। তিনি এসপির এমন উদ্যোগে মহাখুশি বলে জানান।

এসপি মহিবুল ইসলাম খাঁন জাগো নিউজকে বলেন, বণ্যপ্রাণী ধারা বা হত্যা করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। আইনগত দিক ছাড়াও ঘটনাটির সঙ্গে গভীর আবেগ ও পাখির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার বিষয় জড়িত। শেষ পর্যন্ত পাখির জন্য ভালোবাসা জয়ী হওয়ায় তিনি নিজেও খুশি বলে জানান।

আমিন ইসলাম/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।