মীনার স্বপ্নপূরণের সহযাত্রী ফরিদপুর জেলা প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১০ মে ২০২১

সুরাইয়া আক্তার মীনা। ফরিদপুরে ছোট একখণ্ড পৈত্রিক জমিতে বসবাস। পরিবারে অসুস্থ মা-বাবা রয়েছে। দু’বোনের মাঝে সবার ছোট। কয়েক বছর আগে বড় বোনের বিয়ে হয়।

বাবা কর্মহীন গত ৯ মাস যাবত। কর্মহীন বাবার পরিবারে অন্য কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা আর এর ওর কাছ থেকে চেয়ে কোনো রকমে সংসার চলছিল। এরই মাঝে বহুকষ্টে মীনা তার পড়ালেখা টিকিয়ে রাখে। অসুস্থ মায়ের সেবা করতে করতে মীনার মনে এক সময় স্বপ্ন জাগে বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার। পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা চিন্তা করে, মনের ভেতরেই সে স্বপ্ন রেখে দেয় মীনা।

ছাত্রী হিসেবে মীনা খুবই মেধাবী। গত বছর কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে। পাস করেই পড়ে আরও বিড়ম্বনায়। সংসারই যেখানে চলছে না, সেখানে মীনার পড়ালেখা দুঃসাধ্য। এর মাঝে আবার ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করা তো অসম্ভব কল্পনা মাত্র।

তবুও থেমে থাকেনি মীনা। ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য বাড়িতে বসেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। বহুকষ্টে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেয়। মনের সুপ্ত স্বপ্ন আর অর্থনৈতিক টানাপড়েন এরই মাঝে বাস্তব হিসেবে দেখা দেয় স্বপ্ন। মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় টিকে যায়। কিন্তু বিধি বাম, ভর্তি এবং বইপুস্তক কেনার মত টাকা তার পরিবারের দেয়ার উপায় নাই।

কারও নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে ভর্তি হবে, এটাও সম্ভব নয়। কেননা সাহায্যের জন্য একই ব্যক্তিদের নিকট কতবার যাওয়া যায়?

চরম দুশ্চিন্তায় সময় যাচ্ছিল মীনার পরিবারের। এরই মাঝে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করতে বলে এক পরিচিত ব্যক্তি। সে অনুযায়ী রোববার (৯ মে) বাবাকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে আসে মীনা। ভর্তি ও বই কেনার জন্য আবেদন করে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার তার কথা শুনে তাৎক্ষণিক ভর্তি ও বই কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিজ পায়ে দাঁড়াতে মীনাকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসকের এই সেবায় আবেগাপ্লুত মীনার বাবা বলেন, ‘কোন উপায় ছিল না। ভর্তির সময়ও খুব নেই। এ উপহার পেয়ে আমার মেয়ের জীবনটাই পাল্টে যাবে। ওর স্বপ্নপূরণে ডিসি স্যার অতুল সরকার যে সহযোগিতা করলেন, তার ঋণ কোনো দিন শোধ হওয়ার নয়।’

মীনা বলেন, ‘আমার স্বপ্নপূরণে সহযাত্রী হয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। অতুল স্যার (জেলা প্রশাসক) যেভাবে আমাকে সহায়তা করলেন আমি কোনদিন কল্পনাও করিনি কেউ এভাবে সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ভর্তির হওয়ার চিন্তায় দুদিন যাবত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আজ থেকে আমার চিন্তা দূর হলো। আমি চেষ্টা করব ডাক্তার হয়ে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে। আর আমার পথ প্রদর্শক হয়ে থাকবেন আজকের ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যার।’

জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।