টাকা ছাড়ছে না হিসাবরক্ষণ অফিস, বেতন বন্ধ কর্মচারীদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ১০ মে ২০২১

পাবনার বেড়া উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তিনমাস ধরে অর্থ ছাড় না করায় পৌরসভার সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভার কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের বরাদ্দ করা তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দও মাটি হতে চলেছে। এ অবস্থায় পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বেড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, গতবছর অক্টোবর মাসে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর বেড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুল বাতেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠিতে বরখাস্ত করা হয়। মেয়রের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ওই চিঠির কার্যকারিতা তিনমাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত অপর এক আদেশে মেয়রের অনুকূলে দেয়া আগের স্থগিতাদেশ আরও তিনমাস বাড়ান।

বেড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার চিঠি না পাওয়ার অজুহাতে পৌরসভার কোনো অর্থ ছাড় করছেন না। এতে করে গত তিনমাস ধরে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণমূলক কাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতি বছর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সহায়তা হিসেবে সরকার চার কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। তিনমাস আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবারের তৃতীয় কিস্তির অর্থ বরাদ্দ আসে। এই অর্থ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড় করছেন না। এছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন থোক বরাদ্দের অর্থ ছাড় না করায় রাস্তাঘাট, ড্রেনসহ চলমান উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের দেয়া ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাও তিনি ছাড় না করায় এই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ কাজও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি কোভিড নিয়ন্ত্রণের কাজ পরিচালনার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাসহ মোট চার কোটি ৭১ লাখ টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ছাড় না হওয়ায় চলমান সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেড়া পৌরসভার মেয়রের উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এজন্য এসব অর্থ ছাড় করা যাচ্ছে না।

পৌরসভার মেয়রের বরখাস্ত হওয়ার কোনো চিঠি তাকে দেয়া হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, কোনো চিঠি পাননি কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহল থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে পৌরসভার অর্থছাড় বন্ধ রাখা হয়।

বেড়া পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানান, মেয়রের বরখাস্তের চিঠি না পেলেও তিনি যদি মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন তাহলে এখন পুনর্বহালের চিঠি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তুলছেন।

এ ব্যাপারে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন বলেন, উচ্চ আদলতের স্থগিতাদেশের কপি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্ত এরপরও তার খামখেয়ালিপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বন্ধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

আমিন ইসলাম/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।