আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা : ইউএনওসহ ১২ জনের নামে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ১৮ মে ২০২১

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঝালকাঠির রাজাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মো. হালিম খলিফাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় ইউএনওসহ ১২ জনের নামে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চর হাইলাকাঠি গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই নিহত হালিম খলিফার স্ত্রী সুখি আক্তার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়াও অজ্ঞাত ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।

নিহত হালিম মঠবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একই এলাকার মৃত মজিদ খলিফার ছেলে।

মামলার এজাহারভুক্ত ১নং আসামি মন্টু খলিফা, ৩নং আসামি মন্টুর স্ত্রী শিউলি বেগম এবং ৮নং আসামি সেলিম খানকে মামলার পরপরই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে মামলার ১২নং আসামি করা হয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে সুমনকে। তিনি চরহাইলাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া মামলার ২নং আসামি মো. তুহিন খান একজন সেনা সদস্য। তিনি ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। বর্তমানে টাঙ্গাইল সেনানিবাসে কর্মরত রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হালিম খলিফা ও মামলার প্রধান আসামি মন্টু একে অপরের আত্মীয় এবং প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ ওই জমি কেনার জন্য মন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মামলার ১২নং আসামি বর্তমানে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সুমন। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামি মন্টু খলিফার নেতৃত্বে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হালিম খলিফাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। ওখানে আমার গ্রামের বাড়ি। তবে তারা আমার আত্মীয়-স্বজনও নয়। তাদের উভয় পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই মামলা ছিল। বাদীপক্ষ মনে করে, আমরা অপরপক্ষকে সহযোগিতা করি, এটা তাদের ভুল ধারণা। এটা ওদের নিজেদের বিষয়। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

রাজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতেই হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]