চারদিকে থইথই পানি, মাঝে সরকারের উপহারের ঘর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:২৭ পিএম, ২৭ মে ২০২১

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাড়ির উঠানে ও বারান্দার কাছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ মে) থেকে পানি ওঠা শুরু হয়।

জায়গাটি নিচু হওয়ায় বাড়ির চারদিকে পানি থইথই করছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা নেই। বাড়িগুলোতে গভীর নলকূপও নেই। এতে বিপাকে পড়েছে ২১টি পরিবার।

jagonews24

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চর মহিষকান্দি গ্রামের ৭০নং মহিষকান্দি মৌজায় ১নং খতিয়ানের বিআরএস ১৬৭৯ ও ১৬৮১ দাগে ৬৭ শতাংশ জমিতে ‘জমি নাই, ঘর নাই’ এমন অসহায় ২১টি পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি ঘর দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। তাতে মোট খরচ হয়েছে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

jagonews24

ঘর-জমি পাওয়া হাবিবুল্লাহ সরদার বলেন, ‘ঘর-জমি না থাকায় তিন মাস হলো দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সরকারি দেয়া ঘরে উঠেছি। এতোদিন ভালোই ছিলাম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জোয়ারে বাড়ির উঠান ও বারান্দার কাছে পানি উঠেছে। এতে আমরা ২১টি পরিবার চরম ভোগান্তিতে আছি।’

শহিদ ব্যাপারী, আবু কালাম বয়াতি, ছালামত আকন, বিল্লাল সরদারসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমাদের ঘর-জমি নাই। তাই সরকারি ঘরে উঠেছি। কিন্তু জোয়ারের পানি বাড়লে বাড়ির চারদিক পানিতে থইথই করে। তিনদিন ধরে বাড়ির উঠানে পানি। অল্প পানি বাড়লেই ঘরে উঠবে। তাই আমরা কষ্টে আছি। আগামী বর্ষায় ঘরে থাকতে পারি কি-না কে জানে।’

jagonews24

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘যখন ঘর উঠানো হয়েছে, তখন জায়গা সিলেকশনসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল এবং বরাদ্দও কম ছিল। সীমিত সময়ের মধ্যে ঘরগুলো তুলতে হয়েছে। নতুন ঘর তুললে সমস্যা থাকবেই। আরও উঁচু করলে এমন সমস্যা হতো না। আমরা ওখানে মাটি ফেলছি, আরও ফেলব।’

jagonews24

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরগুলোর আশপাশে কিছু পানি উঠেছে। আমরা জায়গাটা পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। ঘরগুলো উঁচু জায়গায়ই করা হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা নেই।’

মো. ছগির হোসেন/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।